ছাত্রদল নেতার কটূক্তি ও নারী হেনস্তার প্রতিবাদে ইবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন
- সময়: ০৮:২২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৫৯

মাশুক এলাহী,ইবি প্রতিনিধি:ছাত্রদল নেতা কর্তৃক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের “যৌনকর্মী” বলে কটুক্তি, সারাদেশে নারী হেনস্তা ও ক্যাম্পাস গুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া পাঁচটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অর্থ সম্পাদক শেখ আলামিন, ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন ও আন্তর্জাতিক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে তাদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর; ধর্ষক আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার; জবাই স্লোগান দিত যারা, তারা এখন বাংলাছাড়া; ছাত্রদলের সন্ত্রাস, রুখে দাও ছাত্রসমাজ; দায় চাপানো রাজনীতি, বন্ধ করো, করতে হবে; চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাঙলায় হবে না; নারী হেনস্তা বন্ধ করো, করতে হবে; শিবিরের অঙ্গীকার, নিরাপদ ক্যাম্পাস’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশে ছাত্রদল গণধর্ষণের মহোৎসব পালন করছেন, ক্যাম্পাসগুলোকে তারা যেভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো-সহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যা তারা করেনি। আমরা আশা করেছিলাম একটা সুন্দর বাংলাদেশ পাবো, যে বাংলাদেশে আমাদের মা-বোন, আমাদের মেয়ে-সহ বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নারী নিরাপদ থাকবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে ধর্ষণের যে মহোৎসব পালন করেছিল ছাত্রলীগ তারই স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ছাত্রদল। আমরা দেখতে পেয়েছি যে জুলাই শহীদের মেয়েকেও ছাত্রদলের নেতাকর্মী দ্বারা ধর্ষিত হতে হয়েছে। ধর্ষিতা হওয়ার পর বিচার না পেয়ে সেই জুলাই যোদ্ধার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ যাদের রক্তের উপর দিয়ে এসেছে তাদের সাথেই যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কীরকম ঘটবে?’
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশেকে ছাত্রদল তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। রাবিতে এক ছাত্রদল নেতা ৯১ জন ছাত্রীদের ‘যৌনকর্মী’ এবং ঢাবির এক নেত্রী ছাত্রীকে ‘সেবাদাসী’ বলে কটূক্তি করেছে। চবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিএনপির নেতা হামলার জন্য উস্কে দিয়েছে। ঢাবির আলী হাসান ছাত্রশিবিরের ন্যূনতম সম্পৃক্ত ছিল না, কিন্তু সে তার প্রোফাইলে ছাত্রদলের প্রতি মায়া দেখিয়ে পোস্ট করেছিল; তা প্রমাণ করে সে ছাত্রদলের সাথেই সম্পৃক্ত। অথচ আমরা প্রশাসন বরাবর তার শাস্তির দাবি জানিয়েছি। বারবার তারা দায় চাপানো রাজনীতি করে যাচ্ছে। ছাত্রশিবির কোনো তুলা নয় যে ফুঁ দিলে ওড়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল আদর্শিক রাজনীতি ছেড়ে পেশিশক্তির রাজনীতি বেচে নিয়েছে। তাদের অফিশিয়াল পেইজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় “একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” বলে ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী স্লোগান দিয়েছে। তারা ৯০-এর সন্ত্রাসী রাজনীতে ফিরে যেতে চায়। এরকম নোংরামি রাজনীতি করতে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদেরকে লাল কার্ড দেখাবে। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ বজায় থাকবে।’
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















