৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১০:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৪৫
জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি

আব্দুল্লাহ আল জিহাদ

উত্তরা ইউনিভার্সিটি

ভাইয়েরা আমার
বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের বোঝা বহন করছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর ভয়াবহ সামরিক নিপীড়নের ফলে জাতিসংঘ যেটিকে বলেছিল “textbook example of ethnic cleansing”—সেই সময় প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী আটকে আছে।

বাংলাদেশ মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু এর মূল্য কী?
বছরে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তা ৭০% থেকে নেমে এসেছে মাত্র ২৫%-এ, প্রতি মাসে জন্ম নিচ্ছে ২ হাজার নবজাতক, অপরাধ, মাদক ও নিরাপত্তা সংকট ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন—

★ রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন কমানো হবে না,
★ আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলবেন,
★ সহায়তা সংকোচনকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন “a crime”,
★ আর বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—
👉 এই আশ্বাস কি আবারও কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে?
👉 নাকি সত্যিই রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলে দেবে?

 

✊ আমাদের তিন দফা দাবি:

১️)মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
২️) জাতিসংঘের প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩️) রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ মানবতার দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু আমরা চিরকাল এই বোঝা বহন করতে পারব না।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এগিয়ে আসতে হবে!

🌍 ত্রিশক্তির কূটনীতি

এই সংকট সমাধান না হওয়ার পেছনে আছে এক জটিল ত্রিভুজ কূটনীতি—

★বাংলাদেশ : মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু এখন টিকে থাকার প্রশ্ন। তাই কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য লড়ছে।

★মিয়ানমার : সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের নাগরিকই মানতে চায় না। তারা সময়ক্ষেপণ করছে, চীন–রাশিয়ার ছত্রছায়ায় আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে যাচ্ছে।

★ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় :

জাতিসংঘ নীতিগতভাবে সমর্থন দেয়, কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে চীন–রাশিয়ার ভেটো বড় বাধা।

চীন মিয়ানমারের ঢাল, কাগুজে আলোচনায় ব্যস্ত।

ভারত দুই দিকেই খেলছে—বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে, আবার মিয়ানমারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিন্তু বাস্তবে ভূরাজনীতি অগ্রাধিকার পায়।

ওআইসি বড় বড় বক্তব্য দেয়, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ সীমিত।

 

রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক সংকট নয়—এটি একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যর্থতা!
আজকে যদি জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না পায়, তবে তা মানবতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

বাংলাদেশ মানবতার খাতিরে দায়িত্ব পালন করেছে। এখন বিশ্বের দায়িত্ব মানবতাকে রক্ষা করা।
আমরা একটাই কথা বলি।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি

সময়: ১০:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবিআব্দুল্লাহ আল জিহাদ উত্তরা ইউনিভার্সিটি ভাইয়েরা আমার বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের বোঝা বহন করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর ভয়াবহ সামরিক নিপীড়নের ফলে জাতিসংঘ যেটিকে বলেছিল “textbook example of ethnic cleansing”—সেই সময় প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী আটকে আছে। বাংলাদেশ মানবতার খাতিরে তাদের আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু এর মূল্য কী? বছরে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়, আন্তর্জাতিক সহায়তা ৭০% থেকে নেমে এসেছে মাত্র ২৫%-এ, প্রতি মাসে জন্ম নিচ্ছে ২ হাজার নবজাতক, অপরাধ, মাদক ও নিরাপত্তা সংকট ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন— ★ রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশন কমানো হবে না, ★ আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলবেন, ★ সহায়তা সংকোচনকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন “a crime”, ★ আর বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো— 👉 এই আশ্বাস কি আবারও কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে? 👉 নাকি সত্যিই রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলে দেবে?   ✊ আমাদের তিন দফা দাবি: ১️)মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ২️) জাতিসংঘের প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩️) রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ মানবতার দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু আমরা চিরকাল এই বোঝা বহন করতে পারব না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এগিয়ে আসতে হবে! 🌍 ত্রিশক্তির কূটনীতি এই সংকট সমাধান না হওয়ার পেছনে আছে এক জটিল ত্রিভুজ কূটনীতি— ★বাংলাদেশ : মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু এখন টিকে থাকার প্রশ্ন। তাই কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য লড়ছে। ★মিয়ানমার : সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের নাগরিকই মানতে চায় না। তারা সময়ক্ষেপণ করছে, চীন–রাশিয়ার ছত্রছায়ায় আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে যাচ্ছে। ★ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় : জাতিসংঘ নীতিগতভাবে সমর্থন দেয়, কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে চীন–রাশিয়ার ভেটো বড় বাধা। চীন মিয়ানমারের ঢাল, কাগুজে আলোচনায় ব্যস্ত। ভারত দুই দিকেই খেলছে—বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে, আবার মিয়ানমারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিন্তু বাস্তবে ভূরাজনীতি অগ্রাধিকার পায়। ওআইসি বড় বড় বক্তব্য দেয়, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ সীমিত।   রোহিঙ্গা সংকট শুধু একটি মানবিক সংকট নয়—এটি একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যর্থতা! আজকে যদি জাতিসংঘ মহাসচিবের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না পায়, তবে তা মানবতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই হবে না। বাংলাদেশ মানবতার খাতিরে দায়িত্ব পালন করেছে। এখন বিশ্বের দায়িত্ব মানবতাকে রক্ষা করা। আমরা একটাই কথা বলি।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.