৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে অনিন্দ্য শোভা আর স্নিগ্ধ সুবাসের ঘ্রাণ

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১১:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫৮
ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে অনিন্দ্য শোভা আর স্নিগ্ধ সুবাসের ঘ্রাণ

ইনছান আলী, স্টাফ রিপোর্টার

প্রধান কয়েকটি দিবস সামনে রেখে ঝিনাইদহের ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা ব্যবস্ততম সময় পার করছেন। তাদের যেন কোন ফুরসত নেই। তাই বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ২১শে ফেব্রয়ারি মাতৃভাষা দিবস ও ২৬ শে মার্চ উপলক্ষ্যে ফুলের রাজ্যে লেগেছে ফাগুনের হাওয়া। ফুল চাষিরা শেষ মহুর্তে নিজের বাগান পরিচর্চা ও বাজার নিয়ে নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দিবসগুলো সামনে আসার আগেই মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে অনিন্দ্য শোভা আর ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস। জাতীয় ও আর্ন্তাজাতিক এই চারটি দিবসকে ঘিরে শত কোটিরও বেশি টাকার ফুল বানিজ্য হবে বলে ব্যবসায়ী ও চাষিরা মনে করছেন।

চাষিরা বলছেন, বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও ২১শে ফেব্রয়ারির বাজার ধরতেই এখন তাদের প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ ফ্লোয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঝিনাইদহের গান্না বাজার ফুল চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জমির উদ্দীন জানান, জেলা সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে শোভা পাচ্ছেন চায়না গোলাপ, থাই গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, মাম ফুল, বোতাম ফুল, গাঁদা, লিলিয়াম, জিপসি ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের ক্ষেত। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বাজার ধরতে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

২৬ মার্চ পর্যন্ত ফুল ধরে রাখতে, পোকার আক্রমণ ও পচন রোধে চাষিরা সতর্ক ভাবে পরিচর্যা করছেন। গান্না বাজারের ফুলচাসি নজরুল ইসলাম ও আদম আলী জানান, এক বিঘা জমিতে গোলাপ ফুল চাষ করতে তাদের সাকুল্যে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বছর শেষে তাদের লাভ হয় বিঘা প্রতি জমিতে ২০ লাখ টাকা। ওই এলঅকার ফুল চাষি মারুফ ও হাসান জানান, এক বিঘা জমিতে জারবেরা ফুল চাষ করতে ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে বছর শেষে লাভ হয়, ২৫ লাখ টাকা। কালীগঞ্জের বেলডাঙ্গা গ্রামের ফুল ব্যবসায়ী প্রদিপ সাহা জানান, ভালোবাসা দিবসে রজনীগন্ধা ও ২১শে ফেব্রয়ারি মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুল বিক্রি বেশি হয়। এ বছরও তারা তেমন প্রস্তুতি মাথায় নিয়ে বাজার সাজাচ্ছেন।

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষি ফজলুর রহমান খাঁন বলেন, ফুলের মান ধরে রাখতে এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন ও কীটনাশক ব্যবহার করছি। আশা করছি, ভালো দামে ফুল বিক্রি করতে পারবেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, তার দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ বাগান রয়েছে। বাগানের গোলাপগুলো লংস্টিক এবং লাল, সাদা, হলুদ, কমলা ও গোলাপি রঙের। এ রঙের ফুল ভালোবাসা দিবসে অনেক বেশি কদর থাকে। এ বছর আবহাওয়া কারণে উৎপাদন অনেক কম। গাছে এখন নতুন কুড়ি এসেছে। আর যেনো নষ্ট না হয় সেজন্য ভিটামিন প্রয়োগ করছেন। তিনি আশা করেন, এ বছর এক একটি গোলাপ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগার আলী জানান, জেলায় রবি মৌসুমে ২১৬ হেক্টর ও খরিপ মৌসুমে ১৮৪ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়ে থাকে। চলতি বছরে এই চাষ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন জানুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় দুই’শ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। আর এই ফুল সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন বলেও তিনি মনে করেন। ঝিনাইদহ গান্না বাজার ফুল চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জমির উদ্দীন জানান, সারা বছর ফুল বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও মূলত বেচাকেনা হয় উৎসবকে ঘিরে।

এ মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে গোলাপ ফুলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। তবে আসন্ন চার দিবসকে ঘিরে অন্তত দেড়’শ টাকার ফুল বিক্রির আশা করেন তিনি।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে অনিন্দ্য শোভা আর স্নিগ্ধ সুবাসের ঘ্রাণ

সময়: ১১:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
ঝিনাইদহের মাঠে মাঠে অনিন্দ্য শোভা আর স্নিগ্ধ সুবাসের ঘ্রাণইনছান আলী, স্টাফ রিপোর্টার প্রধান কয়েকটি দিবস সামনে রেখে ঝিনাইদহের ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা ব্যবস্ততম সময় পার করছেন। তাদের যেন কোন ফুরসত নেই। তাই বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ২১শে ফেব্রয়ারি মাতৃভাষা দিবস ও ২৬ শে মার্চ উপলক্ষ্যে ফুলের রাজ্যে লেগেছে ফাগুনের হাওয়া। ফুল চাষিরা শেষ মহুর্তে নিজের বাগান পরিচর্চা ও বাজার নিয়ে নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দিবসগুলো সামনে আসার আগেই মাঠে মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে অনিন্দ্য শোভা আর ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস। জাতীয় ও আর্ন্তাজাতিক এই চারটি দিবসকে ঘিরে শত কোটিরও বেশি টাকার ফুল বানিজ্য হবে বলে ব্যবসায়ী ও চাষিরা মনে করছেন। চাষিরা বলছেন, বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও ২১শে ফেব্রয়ারির বাজার ধরতেই এখন তাদের প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ ফ্লোয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঝিনাইদহের গান্না বাজার ফুল চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জমির উদ্দীন জানান, জেলা সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে শোভা পাচ্ছেন চায়না গোলাপ, থাই গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, মাম ফুল, বোতাম ফুল, গাঁদা, লিলিয়াম, জিপসি ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের ক্ষেত। তিনি বলেন, বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বাজার ধরতে তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ২৬ মার্চ পর্যন্ত ফুল ধরে রাখতে, পোকার আক্রমণ ও পচন রোধে চাষিরা সতর্ক ভাবে পরিচর্যা করছেন। গান্না বাজারের ফুলচাসি নজরুল ইসলাম ও আদম আলী জানান, এক বিঘা জমিতে গোলাপ ফুল চাষ করতে তাদের সাকুল্যে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বছর শেষে তাদের লাভ হয় বিঘা প্রতি জমিতে ২০ লাখ টাকা। ওই এলঅকার ফুল চাষি মারুফ ও হাসান জানান, এক বিঘা জমিতে জারবেরা ফুল চাষ করতে ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে বছর শেষে লাভ হয়, ২৫ লাখ টাকা। কালীগঞ্জের বেলডাঙ্গা গ্রামের ফুল ব্যবসায়ী প্রদিপ সাহা জানান, ভালোবাসা দিবসে রজনীগন্ধা ও ২১শে ফেব্রয়ারি মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুল বিক্রি বেশি হয়। এ বছরও তারা তেমন প্রস্তুতি মাথায় নিয়ে বাজার সাজাচ্ছেন। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষি ফজলুর রহমান খাঁন বলেন, ফুলের মান ধরে রাখতে এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন ও কীটনাশক ব্যবহার করছি। আশা করছি, ভালো দামে ফুল বিক্রি করতে পারবেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, তার দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ বাগান রয়েছে। বাগানের গোলাপগুলো লংস্টিক এবং লাল, সাদা, হলুদ, কমলা ও গোলাপি রঙের। এ রঙের ফুল ভালোবাসা দিবসে অনেক বেশি কদর থাকে। এ বছর আবহাওয়া কারণে উৎপাদন অনেক কম। গাছে এখন নতুন কুড়ি এসেছে। আর যেনো নষ্ট না হয় সেজন্য ভিটামিন প্রয়োগ করছেন। তিনি আশা করেন, এ বছর এক একটি গোলাপ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগার আলী জানান, জেলায় রবি মৌসুমে ২১৬ হেক্টর ও খরিপ মৌসুমে ১৮৪ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়ে থাকে। চলতি বছরে এই চাষ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন জানুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় দুই’শ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। আর এই ফুল সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন বলেও তিনি মনে করেন। ঝিনাইদহ গান্না বাজার ফুল চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জমির উদ্দীন জানান, সারা বছর ফুল বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও মূলত বেচাকেনা হয় উৎসবকে ঘিরে। এ মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে গোলাপ ফুলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। তবে আসন্ন চার দিবসকে ঘিরে অন্তত দেড়’শ টাকার ফুল বিক্রির আশা করেন তিনি।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.