৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি,হাজারো মানুষ পানিবন্দী

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৪
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি,হাজারো মানুষ পানিবন্দী

মোঃ ইব্রাহিম সরকার, আদিতমারী লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তৃতীয় দফায় লালমনিরহাট জেলার তিস্তার বাম তীরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২.১৬ মিটার, যা বিপদসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ১ সেন্টিমিটার উপরে। একদিনের ব্যবধানে তিস্তার পানি বেড়ে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় দাঁড়িয়েছে ৫২.২২ মিটার, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।গেল সপ্তাহে বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। একদিন পানি কমলেও গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় তা আবার বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে পানি আরও বেড়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ফলে তিস্তা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্দ্ধন, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি প্রবাহ যত বাড়বে বন্যার শঙ্কা ততই বাড়বে। এতে তিস্তার বাম তীরের লালমনিরহাটে তৃতীয় দফায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। পানির চাপের কারনে বেশ কিছু রাস্তা ও বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন ভোটমারীতে ইস্ট্রাকো সোলার প্যানেল এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এ স্থানে তিস্তা নদীর মুলস্রোত ধারা বন্ধ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করতে রাস্তাগুলোতে চাপ পড়েছে। এটি ভেঙে গেলে নদী চলে আসবে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল আলম,সোলার প্যানেলের কারণে পানির চাপ পড়ছে লোকালয়ের রাস্তা ও বাঁধে। এগুলো রক্ষা করা না হলে হাজার হাজার বসতভিটা আর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে। তখন নদী এসে পৌঁছাবে উপজেলা শহরে।

তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ,গতকাল সকাল থেকে নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ডুবে যাচ্ছে। মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আকাশের পানি আর নদীর পানি মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছি।

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের আটো চালক সেলিম ইসলাম বলেন,নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবারগুলো পানিবন্দি, রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। পশুপাখি, শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকছে, কিন্তু কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। তাই প্রশাসনের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি।

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেই আমার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি,হাজারো মানুষ পানিবন্দী

সময়: ১১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি,হাজারো মানুষ পানিবন্দী

মোঃ ইব্রাহিম সরকার, আদিতমারী লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তৃতীয় দফায় লালমনিরহাট জেলার তিস্তার বাম তীরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২.১৬ মিটার, যা বিপদসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ১ সেন্টিমিটার উপরে। একদিনের ব্যবধানে তিস্তার পানি বেড়ে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় দাঁড়িয়েছে ৫২.২২ মিটার, যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।গেল সপ্তাহে বিপদসীমা অতিক্রম করে নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। একদিন পানি কমলেও গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় তা আবার বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে পানি আরও বেড়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ফলে তিস্তা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্দ্ধন, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবাহ যত বাড়বে বন্যার শঙ্কা ততই বাড়বে। এতে তিস্তার বাম তীরের লালমনিরহাটে তৃতীয় দফায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। পানির চাপের কারনে বেশ কিছু রাস্তা ও বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন ভোটমারীতে ইস্ট্রাকো সোলার প্যানেল এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এ স্থানে তিস্তা নদীর মুলস্রোত ধারা বন্ধ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করতে রাস্তাগুলোতে চাপ পড়েছে। এটি ভেঙে গেলে নদী চলে আসবে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে। স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল আলম,সোলার প্যানেলের কারণে পানির চাপ পড়ছে লোকালয়ের রাস্তা ও বাঁধে। এগুলো রক্ষা করা না হলে হাজার হাজার বসতভিটা আর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে। তখন নদী এসে পৌঁছাবে উপজেলা শহরে। তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ,গতকাল সকাল থেকে নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ডুবে যাচ্ছে। মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আকাশের পানি আর নদীর পানি মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছি। ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের আটো চালক সেলিম ইসলাম বলেন,নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবারগুলো পানিবন্দি, রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। পশুপাখি, শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকছে, কিন্তু কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। তাই প্রশাসনের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেই আমার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.