৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১১:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৪৫
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জাককানইবি প্রতিনিধি:জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

মঙ্গলবার(২১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিলে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী রা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। তারা বলেন,

তিস্তা পারের কান্না আর না আর না

তিস্তা নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না ।

জাগো বাহে কোনঠে সবাই,

আসো বায়ে তিস্তা বাঁচাই।

দাবি মোদেড় একটাই ,

তিস্তা নদীর হিস্যা চাই।

দাবি মোদেড় একটাই ,

তিস্তা নদীর পানি চাই।

দিল্লী না ঢাকা,ঢাকা ঢাকা;

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।এসময় তারা, নদী খনন ও প্রবাহ পুনরুদ্ধার, তিস্তার মূলধারা গভীর ও প্রশস্ত করতে হবে নদীতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার জন্য রিজার্ভয়ার বা ব্যারেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও সেচনির্ভর কৃষি টিকিয়ে রাখতে তিস্তার পানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা নদীর তীরে শক্তিশালী ও স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ, কৃষি, মৎস্য ও জীবিকা উন্নয়নে নদীভিত্তিক কৃষি, চিংড়ি চাষ, মাছ চাষ ও পর্যটন উন্নয়নকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার অংশ করা এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য পানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নদীর আশেপাশের চরাঞ্চলে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পানি দূষণ, বালু দখল, এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ বন্ধ করা সহ বিভিন্ন দাবি জানান।

মিছিল শেষে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এবং  রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, `তিস্তা সমস্যা এখন জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে, এটি এখন আর উত্তরবঙ্গের মানুষের সমস্যা না, এটি পুরো বাংলাদেশের সমস্যা। তিস্তা পাড়ের মানুষেরা এক সময় স্বনির্ভর ছিল, তিস্তাকে কেন্দ্র করেই মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু তিস্তা এখন  বালুর চরে পরিণত হয়েছে, তিস্তা এখন মানুষের দুঃখে পরিণত হয়েছে। তিস্তা ছিল আমাদের মায়ের মতো,  কিন্তু তিস্তা এখন অবহেলায় পড়ে আছে। আমরা আর এটি হতে দিতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বলেছে নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কিন্তু এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে কারণ এখনো কোন পিডি নিয়োগ, মাস্টারপ্লান বা কোন পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয় নি। একসময় যার গোলা ভরা ধান ছিল, গোয়াল ভরা গরু ছিল আজ তারা নিঃস্ব হয়ে আছে। ফ্যাসিবাদের সময়ে উত্তরবঙ্গের মানুষ অবহেলিত ছিল, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে কিন্তু তা হয় নি। এই ভারতীয় আগ্রাসনের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দেখা যায় কোন রকম বৃষ্টি ছাড়াই লোকালয়ে পানি ঢুকে যায়। আগামী (৩০ অক্টোবর) রংপুরে স্তব্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে বলবো যদি নভেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হয় আমরা শিক্ষার্থীরা সব গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শাট ডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

।এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণ। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারীর মানুষ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারত খরার সময় পানি আটকে রেখে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করছে, ফলে কৃষক ও জেলেরা বিপর্যস্ত, অনেকে ভিটেমাটি হারিয়েছে। সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও কাজ শুরু হয়নি। আমরা চাই, নভেম্বরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি জিহাদুজ্জামান জিসান বলেন, ‘ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিস্তার পানি নিয়ে বারবার রাজনীতি হয়েছে। পানি যখন প্রয়োজন ঠিক সে সময় বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মানুষ সেটা পাই নি।  যখন প্রয়োজন ছিল না, ভারতে বন্যা হয়েছে বা কারণ ঘটেছে ঠিক সে সময়ে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সাথে বারংবার প্রতারণা করা হয়েছে।

প্রতিটি সরকারের আমলেই উদ্যোগ নেওয়ার কথা শুনলেই এটা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনি।  ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এটার সমাধান পাবো কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী যে চুক্তিগুলো ভারতের সাথে রয়েছে সেগুলোর এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বাস্তবায়ন আমরা দেখি নি। বাংলাদেশের মানুষ এটি উপলব্ধি করেছে যে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ একত্র হয়েছি, আমাদের মাধ্যমে এই ভয়েসগুলো পৌঁছাবে আর প্রতারণার সুযোগ নেই।’


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সময়: ১১:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনজাককানইবি প্রতিনিধি:জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার(২১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী রা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। তারা বলেন, তিস্তা পারের কান্না আর না আর না তিস্তা নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না । জাগো বাহে কোনঠে সবাই, আসো বায়ে তিস্তা বাঁচাই। দাবি মোদেড় একটাই , তিস্তা নদীর হিস্যা চাই। দাবি মোদেড় একটাই , তিস্তা নদীর পানি চাই। দিল্লী না ঢাকা,ঢাকা ঢাকা; বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।এসময় তারা, নদী খনন ও প্রবাহ পুনরুদ্ধার, তিস্তার মূলধারা গভীর ও প্রশস্ত করতে হবে নদীতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখার জন্য রিজার্ভয়ার বা ব্যারেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও সেচনির্ভর কৃষি টিকিয়ে রাখতে তিস্তার পানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা নদীর তীরে শক্তিশালী ও স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ, কৃষি, মৎস্য ও জীবিকা উন্নয়নে নদীভিত্তিক কৃষি, চিংড়ি চাষ, মাছ চাষ ও পর্যটন উন্নয়নকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার অংশ করা এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য পানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য নদীর আশেপাশের চরাঞ্চলে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পানি দূষণ, বালু দখল, এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ বন্ধ করা সহ বিভিন্ন দাবি জানান। মিছিল শেষে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এবং  রংপুর ডিভিশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, `তিস্তা সমস্যা এখন জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে, এটি এখন আর উত্তরবঙ্গের মানুষের সমস্যা না, এটি পুরো বাংলাদেশের সমস্যা। তিস্তা পাড়ের মানুষেরা এক সময় স্বনির্ভর ছিল, তিস্তাকে কেন্দ্র করেই মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু তিস্তা এখন  বালুর চরে পরিণত হয়েছে, তিস্তা এখন মানুষের দুঃখে পরিণত হয়েছে। তিস্তা ছিল আমাদের মায়ের মতো,  কিন্তু তিস্তা এখন অবহেলায় পড়ে আছে। আমরা আর এটি হতে দিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বলেছে নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কিন্তু এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে কারণ এখনো কোন পিডি নিয়োগ, মাস্টারপ্লান বা কোন পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয় নি। একসময় যার গোলা ভরা ধান ছিল, গোয়াল ভরা গরু ছিল আজ তারা নিঃস্ব হয়ে আছে। ফ্যাসিবাদের সময়ে উত্তরবঙ্গের মানুষ অবহেলিত ছিল, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে কিন্তু তা হয় নি। এই ভারতীয় আগ্রাসনের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না কিন্তু বর্ষা মৌসুমে দেখা যায় কোন রকম বৃষ্টি ছাড়াই লোকালয়ে পানি ঢুকে যায়। আগামী (৩০ অক্টোবর) রংপুরে স্তব্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে বলবো যদি নভেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হয় আমরা শিক্ষার্থীরা সব গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শাট ডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’ ।এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সানোয়ার রাব্বি প্রমিজ বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণ। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারীর মানুষ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারত খরার সময় পানি আটকে রেখে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করছে, ফলে কৃষক ও জেলেরা বিপর্যস্ত, অনেকে ভিটেমাটি হারিয়েছে। সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও কাজ শুরু হয়নি। আমরা চাই, নভেম্বরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হোক।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি জিহাদুজ্জামান জিসান বলেন, ‘ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিস্তার পানি নিয়ে বারবার রাজনীতি হয়েছে। পানি যখন প্রয়োজন ঠিক সে সময় বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের মানুষ সেটা পাই নি।  যখন প্রয়োজন ছিল না, ভারতে বন্যা হয়েছে বা কারণ ঘটেছে ঠিক সে সময়ে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সাথে বারংবার প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারের আমলেই উদ্যোগ নেওয়ার কথা শুনলেই এটা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনি।  ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এটার সমাধান পাবো কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী যে চুক্তিগুলো ভারতের সাথে রয়েছে সেগুলোর এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বাস্তবায়ন আমরা দেখি নি। বাংলাদেশের মানুষ এটি উপলব্ধি করেছে যে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ একত্র হয়েছি, আমাদের মাধ্যমে এই ভয়েসগুলো পৌঁছাবে আর প্রতারণার সুযোগ নেই।’

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.