৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে রুকন হলেও আল্লাহর কাছে তার দাম নেই | মাওলানা এটিএম মাছুম

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১০:১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৮
দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে রুকন হলেও আল্লাহর কাছে তার দাম নেই | মাওলানা এটিএম মাছুম

রোকনিয়াতের দায়িত্ব ও কর্তব্য

🌿 ভূমিকা
রোকনিয়াত কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়, বরং এটি একটি ঈমানি অঙ্গীকার এবং আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদার বাস্তবায়নে একটি পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ যে সকল জাতিকে ধ্বংস করেছেন, তাদের অন্যতম প্রধান অপরাধ ছিল অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। একজন রোকনের মূল অঙ্গীকার হলো:
> “আল্লাহর জন্য নিজেকে কুরবান করা এবং স্বেচ্ছায় তাঁর নিকট সম্পূর্ণরূপে নিজেকে সমর্পণ করা।”

🌟 রোকনের বিশেষ পরিচিতি
আল্লাহর নৈকট্য লাভের দুটি পথ রয়েছে, যার মধ্যে রোকনরা নবীদের পথ অনুসরণ করে:
* বেলায়াতে আম্বিয়া: ফরজ ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
* বেলায়াতে আওলিয়া/সুফি: নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
একজন রোকন ফরজ ইবাদত, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মাধ্যমেই আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। অর্থাৎ, সে বেলায়াতে আম্বিয়ার অনুসারী হবে।

🛡️ রোকনের সাংগঠনিক ভূমিকা
সাংগঠনিক কাঠামোতে একজন রোকন হলেন:
১.  পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নকারী।
২.  সংগঠনের নীতি ও আদর্শের ধারক ও বাহক।
৩.  সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৪.  মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের জীবন্ত প্রতিনিধি।
৫.  জামায়াতের প্রতিটি কর্মসূচির বাস্তব রূপকার।
৬.  আল্লাহর কাছে রোকনিয়াতের প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত একজন ব্যক্তি।

🔥 দায়িত্বানুভূতি: রোকনের প্রাণ
দায়িত্বানুভূতিই একজন রোকনের জীবন্ত সত্তার পরিচায়ক। এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো:
১.  দায়িত্বানুভূতিহীন ব্যক্তি কাগজের ফুলের মতো, যার বাহ্যিক সৌন্দর্য থাকলেও কোনো প্রাণ বা সুগন্ধ নেই।
২.  যাদের চরিত্রে দুর্গন্ধ রয়েছে, তারা জামায়াতের তালিকায় থাকলেও আল্লাহর তালিকায় স্থান পাবে না।
৩.  রোকনদের হতে হবে “সারিয়্যুত ত্বরিকার সাবিকুন” অর্থাৎ, সকল ভালো কাজে অগ্রগামী।
৪.  তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
৫.  তাদের চারিত্রিক মানদণ্ড হবে নবী-রাসুলদের (আ.) এর সুমহান আদর্শ।
৬.  রোকনিয়াতের প্রধান লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি অর্জন।
৭.  নিজের ভেতরের বৈষম্য দূর না করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্লোগান অর্থহীন।
৮.  সাহাবীদের আদর্শ জীবনে ধারণ না করে পৃথিবীর এই জঞ্জাল দূর করা সম্ভব নয়। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
> “সাহাবারা যখন সিরিয়ায় গিয়েছিলেন, তখন ইহুদিরা বলাবলি করত— মুহাম্মদের (সা.) সাহাবিরা ঈসার (আ.) সঙ্গীদের মতোই সাহসী।”
>
যেদিন জামায়াতের কর্মীরা সাহাবীদের মতো চরিত্র ধারণ করতে পারবে, সেদিনই ইসলামী বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী।

🌙 ঈমান ও ইস্তেকামাত
একজন রোকনের জীবনের মূল ভিত্তি হবে দুটি জিনিস— দৃঢ় ঈমান এবং অটল ইস্তেকামাত (অবিচলতা)। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১.  আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে (সা.) দুনিয়ার সকল প্রিয় বস্তুর চেয়ে বেশি ভালোবাসা।
২.  জাহেলিয়াতের দিকে ফিরে যাওয়াকে জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে নেওয়ার চেয়েও কঠিন মনে করা।
৩.  ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো দৃঢ় ঈমান ধারণ করা, যার ফলে আগুনও বাগানে পরিণত হয়েছিল।
৪.  সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা এবং অন্তরে তাঁর ভয় জাগ্রত রাখা।
৫.  নিজের জীবনকে একজন “দায়ী ইলাল্লাহ” বা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জীবনে রূপান্তরিত করা।
৬.  নামাজকে আল্লাহর সাথে কথোপকথন বা মিরাজের মাধ্যম হিসেবে আদায় করা।
> প্রোগ্রাম শেষ করে নামাজ নয়, বরং আযান হওয়ার সাথে সাথেই প্রোগ্রাম স্থগিত করে নামাজের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
>

🎯 রোকনের লক্ষ্য ও মানদণ্ড
একজন রোকন তার উপর অর্পিত দায়িত্বকে নাজাতের উসিলা হিসেবে গ্রহণ করবে এবং নিজেকে একটি স্বচালিত (Self-driven) মেশিনের মতো গড়ে তুলবে। চূড়ান্তভাবে একজন রোকন হবেন:
* যুগের শ্রেষ্ঠ সংগঠক
* শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ
* শ্রেষ্ঠ দায়ী ইলাল্লাহ
* এবং সকল সৎগুণের আধার

পরিশেষে তিনি বলেন, ” দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে জামায়াতের রুকনের তালিকায় আপনার নাম  থাকলেও আল্লাহর তালিকায় কিন্তু নাম নেই “


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে রুকন হলেও আল্লাহর কাছে তার দাম নেই | মাওলানা এটিএম মাছুম

সময়: ১০:১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে রুকন হলেও আল্লাহর কাছে তার দাম নেই | মাওলানা এটিএম মাছুম

রোকনিয়াতের দায়িত্ব ও কর্তব্য

🌿 ভূমিকা
রোকনিয়াত কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়, বরং এটি একটি ঈমানি অঙ্গীকার এবং আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদার বাস্তবায়নে একটি পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ যে সকল জাতিকে ধ্বংস করেছেন, তাদের অন্যতম প্রধান অপরাধ ছিল অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। একজন রোকনের মূল অঙ্গীকার হলো:
> “আল্লাহর জন্য নিজেকে কুরবান করা এবং স্বেচ্ছায় তাঁর নিকট সম্পূর্ণরূপে নিজেকে সমর্পণ করা।”

🌟 রোকনের বিশেষ পরিচিতি
আল্লাহর নৈকট্য লাভের দুটি পথ রয়েছে, যার মধ্যে রোকনরা নবীদের পথ অনুসরণ করে:
* বেলায়াতে আম্বিয়া: ফরজ ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
* বেলায়াতে আওলিয়া/সুফি: নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
একজন রোকন ফরজ ইবাদত, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মাধ্যমেই আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। অর্থাৎ, সে বেলায়াতে আম্বিয়ার অনুসারী হবে।

🛡️ রোকনের সাংগঠনিক ভূমিকা
সাংগঠনিক কাঠামোতে একজন রোকন হলেন:
১.  পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নকারী।
২.  সংগঠনের নীতি ও আদর্শের ধারক ও বাহক।
৩.  সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি।
৪.  মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের জীবন্ত প্রতিনিধি।
৫.  জামায়াতের প্রতিটি কর্মসূচির বাস্তব রূপকার।
৬.  আল্লাহর কাছে রোকনিয়াতের প্রতিটি দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত একজন ব্যক্তি।

🔥 দায়িত্বানুভূতি: রোকনের প্রাণ
দায়িত্বানুভূতিই একজন রোকনের জীবন্ত সত্তার পরিচায়ক। এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো:
১.  দায়িত্বানুভূতিহীন ব্যক্তি কাগজের ফুলের মতো, যার বাহ্যিক সৌন্দর্য থাকলেও কোনো প্রাণ বা সুগন্ধ নেই।
২.  যাদের চরিত্রে দুর্গন্ধ রয়েছে, তারা জামায়াতের তালিকায় থাকলেও আল্লাহর তালিকায় স্থান পাবে না।
৩.  রোকনদের হতে হবে “সারিয়্যুত ত্বরিকার সাবিকুন” অর্থাৎ, সকল ভালো কাজে অগ্রগামী।
৪.  তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
৫.  তাদের চারিত্রিক মানদণ্ড হবে নবী-রাসুলদের (আ.) এর সুমহান আদর্শ।
৬.  রোকনিয়াতের প্রধান লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি অর্জন।
৭.  নিজের ভেতরের বৈষম্য দূর না করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্লোগান অর্থহীন।
৮.  সাহাবীদের আদর্শ জীবনে ধারণ না করে পৃথিবীর এই জঞ্জাল দূর করা সম্ভব নয়। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
> “সাহাবারা যখন সিরিয়ায় গিয়েছিলেন, তখন ইহুদিরা বলাবলি করত— মুহাম্মদের (সা.) সাহাবিরা ঈসার (আ.) সঙ্গীদের মতোই সাহসী।”
>
যেদিন জামায়াতের কর্মীরা সাহাবীদের মতো চরিত্র ধারণ করতে পারবে, সেদিনই ইসলামী বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী।

🌙 ঈমান ও ইস্তেকামাত
একজন রোকনের জীবনের মূল ভিত্তি হবে দুটি জিনিস— দৃঢ় ঈমান এবং অটল ইস্তেকামাত (অবিচলতা)। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১.  আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে (সা.) দুনিয়ার সকল প্রিয় বস্তুর চেয়ে বেশি ভালোবাসা।
২.  জাহেলিয়াতের দিকে ফিরে যাওয়াকে জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে নেওয়ার চেয়েও কঠিন মনে করা।
৩.  ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো দৃঢ় ঈমান ধারণ করা, যার ফলে আগুনও বাগানে পরিণত হয়েছিল।
৪.  সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা এবং অন্তরে তাঁর ভয় জাগ্রত রাখা।
৫.  নিজের জীবনকে একজন “দায়ী ইলাল্লাহ” বা আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জীবনে রূপান্তরিত করা।
৬.  নামাজকে আল্লাহর সাথে কথোপকথন বা মিরাজের মাধ্যম হিসেবে আদায় করা।
> প্রোগ্রাম শেষ করে নামাজ নয়, বরং আযান হওয়ার সাথে সাথেই প্রোগ্রাম স্থগিত করে নামাজের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
>

🎯 রোকনের লক্ষ্য ও মানদণ্ড
একজন রোকন তার উপর অর্পিত দায়িত্বকে নাজাতের উসিলা হিসেবে গ্রহণ করবে এবং নিজেকে একটি স্বচালিত (Self-driven) মেশিনের মতো গড়ে তুলবে। চূড়ান্তভাবে একজন রোকন হবেন:
* যুগের শ্রেষ্ঠ সংগঠক
* শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ
* শ্রেষ্ঠ দায়ী ইলাল্লাহ
* এবং সকল সৎগুণের আধার

পরিশেষে তিনি বলেন, ” দুর্গন্ধযুক্ত চরিত্র নিয়ে জামায়াতের রুকনের তালিকায় আপনার নাম  থাকলেও আল্লাহর তালিকায় কিন্তু নাম নেই “


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.