নড়াইলে অটোভ্যান চালক আলিফ হত্যার রহস্য উদঘাটন দুইজন গ্রেফতার
- সময়: ১০:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
- / ৩৬

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে
নড়াইলে অটোভ্যান চালক আলিফ হত্যার রহস্য উদঘাটন দুইজন গ্রেফতার।
নড়াইল সদর উপজেলার তুলরামপুর ইউনিয়নের ছোট মিতনা গ্রামের কিনায়েত বিশ্বাসের ছেলে কিশোর অটোভ্যান চালক মো. আমিনুর বিশ্বাস আলিফ (১৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, রোববার (৫ অক্টোবর) আলিফের মা রোজিনা বেগম তার ছেলেকে না পেয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে আলিফ অটোভ্যান চালাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। এ নিয়ে নড়াইল জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। তদন্তে আলিফের সঙ্গে তুলরামপুর ইউনিয়নের চাচড়া গ্রামের বাহারুল বিশ্বাসের ছেলে মিনারুল বিশ্বাস (২২) ও একই গ্রামের হাফিজুর মোল্যার ছেলে হৃদয় মোল্যাকে (২০) শেষবার দেখা গিয়েছিল।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন মিনারুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। মিনারুল পুলিশের কাছে স্বীকার করে, সে ও হৃদয় মোল্যা পরিকল্পিতভাবে আলিফকে কোমল পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করায়। এসময় আলিফের ঘুম পেলে আসামি হৃদয় তাদের ভ্যান চালিয়ে বাহিরগ্রাম বাজারে নিয়ে যায়। পরে আলিফকে বাজারে বসিয়ে রেখে মিনারুল ও হৃদয় ভ্যান চার্জ দেওয়ার কথা বলে হৃদয়ের মামা বাড়ি রেখে আসেন। এরপর হাঁটতে হাঁটতে দেবভোগ বিল এলাকায় যায় তিনজন। এরপর আলিফের গলা চেপে হত্যা করে মিনারুল ও হৃদয়। পরে মরদেহ পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।
পরদিন আসামিরা আলিফের অটোভ্যানের ব্যাটারি খুলে নড়াইল শহরের মুচিরপোল এলাকায় বিক্রি করে দেয়। পুলিশ অভিযানে অটোভ্যানের ব্যাটারি, ভ্যান ও আলিফের ব্যবহৃত স্মার্টফোন উদ্ধার করে। পরে সোমবার (৬ অক্টোবর) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকা থেকে পালানোর সময় হৃদয় মোল্যাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কিশোর আলিফের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে সোমবার নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিনারুল ও হৃদয়কে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর এ আলম সিদ্দিকী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















