নিশ্চিতভাবে, নিচে আপনার দেয়া তথ্য অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হলো
- সময়: ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / ৫১

দুপুরে বন্ধ হয় মাদ্রাসা! — বারবার অনিয়ম, দেখেও ব্যবস্থা নেয় না শিক্ষা অধিদপ্তর
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মাটিয়াল আল মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দিনের আলো থাকতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রতিদিন দুপুর ২টার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ। অথচ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিতভাবে সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটিতে নিয়মমাফিক শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান। পাঠদানের চেয়ে অফিসিয়াল ফর্মালিটিতেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়—
প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক খোলা থাকলেও অভ্যন্তরের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। কোথাও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী ছিল না। পুরো মাদ্রাসা তখন ছিল জনশূন্য। স্থানীয়রা বলেন, “এটাই এখানে প্রতিদিনের চিত্র। শিক্ষার্থীরা সময়মতো গেলেও শিক্ষকরা থাকেন না। এতে করে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
উপজেলা শিক্ষা অফিস নীরব!
এ বিষয়ে কথা বলতে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন রিসিভ করেন তার মেয়ে। তিনি জানান, “আব্বু এখন বিয়ের অনুষ্ঠানে আছেন, কথা বলতে পারবেন না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “মাদ্রাসায় বর্তমানে পরীক্ষা চলছে, তাই শিক্ষকরা আগে চলে গেছেন।” তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানান, “পরীক্ষা থাকুক বা না থাকুক, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানেই থাকতে হবে। এটি সরকারি নির্দেশনা। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আগেও উঠেছিল অভিযোগ, তবুও শৃঙ্খলার অভাব
চলতি বছরের শুরুতেও মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছিল একাধিক জাতীয় পত্রিকায়। তখন কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবারও আগের মতোই ঢিলেঢালা অবস্থায় ফিরে যায় প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও গড়িমসির কারণে প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম দিনের পর দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।
এক অভিভাবক বলেন, “ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন সময়মতো যায়, কিন্তু ক্লাসই হয় না। শিক্ষক থাকেন না। এভাবে কী শিখবে তারা?”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “নাম মাদ্রাসা, কিন্তু বাস্তবে তা নেই। শুধু নামেই টিকে আছে। দিনে দিনে সর্বনাশ হচ্ছে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ।”
প্রশাসনের টালবাহানা নয়, চাই কঠোর ব্যবস্থা
সচেতন মহলের দাবি, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শুধু ফাইল ও কাগজে নয়, বাস্তবেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। নয়তো সরকারের শিক্ষানীতির সার্থকতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















