৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালী সুবর্ণচরের ভূইয়ার হাটে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপুরনের আশ্বাস বিএনপি নেতার, 

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৯৬
নোয়াখালী সুবর্ণচরের ভূইয়ার হাটে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপুরনের আশ্বাস বিএনপি নেতার, 

এস এম রফিক মাহমুদ,

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী

 

সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের  চরমজিদ ভূঁঞারহাট বাজারে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া সরেজমিনে চরমজিদ ভূঁঞারহাট বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুড়ে যাওয়া দোকান ঘর ও ধ্বংস স্তুুপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সারোয়ার উদ্দিন দিদার।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নুর হোসেন ডুবাই, চরবাটা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাইন উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক জামাল উদ্দিন, চরবাটা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাকা চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ রাসেদ, শ্রমিক দল নেতা রনি,আক্তার, শরীফসহ প্রমুখ। এছাড়াও বাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষে হাজী নরুল হুদা, বিসমিল্লাহ হোটেল মালিক সোহেল,বাজার ক্যাশিয়ার আবুল বাশার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, তাদের স্বজন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া বলেন, আমার ব্যবসায়ী ভাইদের এমন ক্ষয়ক্ষতি মেনে নেওয়ার মতো নয়। বিপদ তো আর কাউকে বলে আসে না, আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে সবাইকে। মহান রব সম্পদ দিয়েছেন আবার কেড়েও নিয়েছেন। ধৈর্যশীল হতে হবে।

 

কয়েক কোটি টাকার সম্পদ আগুন কেড়ে নিয়েছে যা দেখলাম। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রাখবো আপনারা ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবেন অবশ্যই এবং দোকান ঘর গুলো পাকা সাইড ওয়াল করে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা দিবেন। তিনি আরও জানান, কাউকে ১ পয়সা ও চাঁদা দিবেন না আপনারা, চাঁদা দাবি করলে কেউ আমাকে জানাবেন। প্রয়োজন হলে আমি নিজে দাড়িয়ে থাকবো আপনারা ঘরের কাজ করবেন।

 

উল্লেখ্য, গত রবিবার  (১৯ জানুয়ারি) ভোর রাতের দিকে ভূঞারহাট বাজার জিরো পয়েন্ট, দক্ষিন বাজার এমপি মার্কেট সংলগ্ন দোকান গুলোতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় বাজারের চকিদার মোঃ হেলাল বলেন, রাতে জিরো পয়েন্টে কাইয়ুম মোটর এন্ড পার্টসের পাশে কবিরের চা দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় লোকজন। এ সময় স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে ছুটে এলেও আগুন দ্রুত পুরো দক্ষিনের দোকান গুলোর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে  স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এরপর সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

কিন্তু এর আগেই আগুনে সিএনজি গ্যারেজ, হুন্ডা গ্যারেজ, সোহেল স্টোরের চাউল ও মুদি গোডাউন, প্রাণ গোবিন্দ মেডিসিন কর্নার, রুচিকা ব্রেড এন্ড বেকারির গুদাম, মা জননী ইলেকট্রিক এন্ড হুন্ডা পার্টস, যমুনা ইলেকট্রিকের অস্থায়ী গুদামসহ অন্তত ১৮টি দোকান পুড়ে যায়।

এতে দোকানগুলোতে থাকা মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা পুড়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ব্যবসায়ীদের দাবি কমবেশি প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দোকানিরা।

আগুনে পুড়ে যাওয়া কাইয়ুম মোটর এন্ড পার্টসের  স্বত্বাধিকারী মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, আগামীকাল সকালে আমি ব্যাংকে টিটি করবো পুষ্টি, মুসকান তেল, সজীব গ্রুপ, প্রাণ আরএফএল সহ কয়েকটি কোম্পানীর। তাই আমার ডিলার পয়েন্ট তোতার থেকে হিসাব শেষ করে দোকানে রাতেই নগদ ২৪ লক্ষ টাকা ক্যাশ এনে রেখেছি।

 

হঠাৎ খবর পেলাম আগুন লেগেছে। দোকানের সামনে এসে দেখি আমার সব পুড়ে ছাই। সুবর্ণচরের দক্ষিন অঞ্চলে আমার দোকানটি বৃহত্তর মোটর পার্টস  পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র। দোকানটিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার মতো মালামালে ভর্তি ছিলো। আমি শেষ হয়ে গেলাম।

অগ্নিকাণ্ডে মা জননী  ইলেকট্রনিকস এন্ড পার্টস দোকানের মালিক কাজল বলেন, এখানে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পাইকারি ও খুচরা মালামাল বিক্রি করে।

অনেকগুলো দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমাদের কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগেছে। আর কবিরের চা দোকানে অকটেন ও গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. নূরনবী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত  ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নেভানো  জন্যে ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমাদের জানামতে অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান পুড়েছে তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নোয়াখালী সুবর্ণচরের ভূইয়ার হাটে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপুরনের আশ্বাস বিএনপি নেতার, 

সময়: ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
নোয়াখালী সুবর্ণচরের ভূইয়ার হাটে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপুরনের আশ্বাস বিএনপি নেতার, এস এম রফিক মাহমুদ, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী   সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের  চরমজিদ ভূঁঞারহাট বাজারে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।   বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া সরেজমিনে চরমজিদ ভূঁঞারহাট বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুড়ে যাওয়া দোকান ঘর ও ধ্বংস স্তুুপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সারোয়ার উদ্দিন দিদার।   আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নুর হোসেন ডুবাই, চরবাটা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাইন উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক জামাল উদ্দিন, চরবাটা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাকা চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ রাসেদ, শ্রমিক দল নেতা রনি,আক্তার, শরীফসহ প্রমুখ। এছাড়াও বাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষে হাজী নরুল হুদা, বিসমিল্লাহ হোটেল মালিক সোহেল,বাজার ক্যাশিয়ার আবুল বাশার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, তাদের স্বজন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া বলেন, আমার ব্যবসায়ী ভাইদের এমন ক্ষয়ক্ষতি মেনে নেওয়ার মতো নয়। বিপদ তো আর কাউকে বলে আসে না, আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে সবাইকে। মহান রব সম্পদ দিয়েছেন আবার কেড়েও নিয়েছেন। ধৈর্যশীল হতে হবে।   কয়েক কোটি টাকার সম্পদ আগুন কেড়ে নিয়েছে যা দেখলাম। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রাখবো আপনারা ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবেন অবশ্যই এবং দোকান ঘর গুলো পাকা সাইড ওয়াল করে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা দিবেন। তিনি আরও জানান, কাউকে ১ পয়সা ও চাঁদা দিবেন না আপনারা, চাঁদা দাবি করলে কেউ আমাকে জানাবেন। প্রয়োজন হলে আমি নিজে দাড়িয়ে থাকবো আপনারা ঘরের কাজ করবেন।   উল্লেখ্য, গত রবিবার  (১৯ জানুয়ারি) ভোর রাতের দিকে ভূঞারহাট বাজার জিরো পয়েন্ট, দক্ষিন বাজার এমপি মার্কেট সংলগ্ন দোকান গুলোতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাজারের চকিদার মোঃ হেলাল বলেন, রাতে জিরো পয়েন্টে কাইয়ুম মোটর এন্ড পার্টসের পাশে কবিরের চা দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় লোকজন। এ সময় স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে ছুটে এলেও আগুন দ্রুত পুরো দক্ষিনের দোকান গুলোর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে  স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এরপর সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু এর আগেই আগুনে সিএনজি গ্যারেজ, হুন্ডা গ্যারেজ, সোহেল স্টোরের চাউল ও মুদি গোডাউন, প্রাণ গোবিন্দ মেডিসিন কর্নার, রুচিকা ব্রেড এন্ড বেকারির গুদাম, মা জননী ইলেকট্রিক এন্ড হুন্ডা পার্টস, যমুনা ইলেকট্রিকের অস্থায়ী গুদামসহ অন্তত ১৮টি দোকান পুড়ে যায়। এতে দোকানগুলোতে থাকা মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা পুড়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। ব্যবসায়ীদের দাবি কমবেশি প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দোকানিরা। আগুনে পুড়ে যাওয়া কাইয়ুম মোটর এন্ড পার্টসের  স্বত্বাধিকারী মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, আগামীকাল সকালে আমি ব্যাংকে টিটি করবো পুষ্টি, মুসকান তেল, সজীব গ্রুপ, প্রাণ আরএফএল সহ কয়েকটি কোম্পানীর। তাই আমার ডিলার পয়েন্ট তোতার থেকে হিসাব শেষ করে দোকানে রাতেই নগদ ২৪ লক্ষ টাকা ক্যাশ এনে রেখেছি।   হঠাৎ খবর পেলাম আগুন লেগেছে। দোকানের সামনে এসে দেখি আমার সব পুড়ে ছাই। সুবর্ণচরের দক্ষিন অঞ্চলে আমার দোকানটি বৃহত্তর মোটর পার্টস  পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র। দোকানটিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার মতো মালামালে ভর্তি ছিলো। আমি শেষ হয়ে গেলাম। অগ্নিকাণ্ডে মা জননী  ইলেকট্রনিকস এন্ড পার্টস দোকানের মালিক কাজল বলেন, এখানে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পাইকারি ও খুচরা মালামাল বিক্রি করে। অনেকগুলো দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমাদের কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগেছে। আর কবিরের চা দোকানে অকটেন ও গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. নূরনবী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত  ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নেভানো  জন্যে ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আমাদের জানামতে অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি দোকান পুড়েছে তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.