৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাশবাড়ীতে ‘ভুল চিকিৎসায়’ মা ও নবজাতকের মৃত্যু: মা ক্লিনিকে বিরাজমান উত্তেজনায় সেনা মোতায়েন

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৯:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৫৫
পলাশবাড়ীতে 'ভুল চিকিৎসায়' মা ও নবজাতকের মৃত্যু: মা ক্লিনিকে বিরাজমান উত্তেজনায় সেনা মোতায়েন

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম-এ এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রসূতি হলেন পারভীন আক্তার পারুল বেগম (২৫)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে।

রোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রসূতি পারুল বেগমকে সিজারের জন্য শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার সিজার শুরু করে। স্বজনদের অভিযোগ, ‘ভুল চিকিৎসার’ কারণে রাত ৪টার দিকে প্রসূতি পারুলের মৃত্যু হয়।

প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিকের কর্তব্যরতরা বিষয়টি গোপন রেখে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মৃতদেহ রংপুর রেফার্ড করার চেষ্টা করলে রোগীর স্বজনরা বিষয়টি ধরে ফেলেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তারা ক্লিনিকে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর শুরু করেন এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পরে জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম মিলনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নিহত পারুল বেগম পলাশবাড়ী পৌর শহরের জামালপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা এবং উপজেলা মহদীপুর ইউনিয়নের বিশ্রামগাছী গ্রামের শামিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তার মরদেহ স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন হয়।

স্বজনরা জানান, এর আগে পারুলের দুটি সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল এবং এটি ছিল তৃতীয় সিজার। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই সিজারের সময় ভুল চিকিৎসার কারণেই পারুল বেগম ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

তারা এ ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও ক্লিনিকের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মা ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী গ্রামের সরকারি কবরস্থানের সামনে অবস্থিত এই মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম-এর মালিক পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগম। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ক্লিনিকটিতে প্রতিনিয়ত প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তা বারবার ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

পলাশবাড়ীতে ‘ভুল চিকিৎসায়’ মা ও নবজাতকের মৃত্যু: মা ক্লিনিকে বিরাজমান উত্তেজনায় সেনা মোতায়েন

সময়: ০৯:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
পলাশবাড়ীতে 'ভুল চিকিৎসায়' মা ও নবজাতকের মৃত্যু: মা ক্লিনিকে বিরাজমান উত্তেজনায় সেনা মোতায়েনপলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগে মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম-এ এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রসূতি হলেন পারভীন আক্তার পারুল বেগম (২৫)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে। রোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রসূতি পারুল বেগমকে সিজারের জন্য শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার সিজার শুরু করে। স্বজনদের অভিযোগ, ‘ভুল চিকিৎসার’ কারণে রাত ৪টার দিকে প্রসূতি পারুলের মৃত্যু হয়। প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিকের কর্তব্যরতরা বিষয়টি গোপন রেখে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মৃতদেহ রংপুর রেফার্ড করার চেষ্টা করলে রোগীর স্বজনরা বিষয়টি ধরে ফেলেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তারা ক্লিনিকে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর শুরু করেন এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন। পরে জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম মিলনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিহত পারুল বেগম পলাশবাড়ী পৌর শহরের জামালপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা এবং উপজেলা মহদীপুর ইউনিয়নের বিশ্রামগাছী গ্রামের শামিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তার মরদেহ স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনরা জানান, এর আগে পারুলের দুটি সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল এবং এটি ছিল তৃতীয় সিজার। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই সিজারের সময় ভুল চিকিৎসার কারণেই পারুল বেগম ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও ক্লিনিকের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মা ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী গ্রামের সরকারি কবরস্থানের সামনে অবস্থিত এই মা ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম-এর মালিক পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগম। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ক্লিনিকটিতে প্রতিনিয়ত প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তা বারবার ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.