প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ জাল, হুমকিতে দেশি প্রজাতির মা মাছ
- সময়: ১০:৪০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৫৯

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল। এসব অবৈধ জালের ব্যবহারেই নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে প্রজননক্ষম মা মাছ ও পোনা, যা দেশীয় মাছের প্রজাতি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া জাল ব্যবসায়ীরা
জানা গেছে, উপজেলার উলিপুরহাট, দুর্গাপুর হাট, মন্ডলের হাট, জনতার হার্ট ও গড়াই হাটসহ বিভিন্ন বাজারে সরাসরি ও গোপনে বিক্রি হচ্ছে এসব জাল। বর্ষা মৌসুমে বিল-নদী-খাল পানিতে ভরে যাওয়ার ফলে মাছের প্রজনন শুরু হয়। এই সময়টাতেই দেশীয় প্রজাতির বোয়াল, শোল, শিং, টেংরা, পুটি, মলা, চেলা, ঢেলা ইত্যাদি মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু অসাধু মৎস্যজীবীরা অবৈধ জাল ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা নিধন করছে।
২০০২ সালে প্রণীত মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জালের উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। এমনকি ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে কম ফাঁসযুক্ত জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও উপেক্ষিত।
উলিপুর মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, আইন অনুযায়ী এসব জালের ব্যবসা ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও যথাযথ মনিটরিং ও অভিযান না থাকায় এসব জালের ব্যবসা এখন প্রকাশ্যেই চলছে। হাট-বাজারে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে বেচাকেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জাল ব্যবসায়ী জানান, উলিপুর হাটেই সবচেয়ে বড় কারেন্ট জালের পাইকারি বাজার। এখান থেকে লাখ লাখ টাকার জাল কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটে খুচরা বিক্রি হয়।
স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বলছেন, অবৈধ জাল ব্যবসার কারণে দেশের মূল্যবান দেশীয় মাছ প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে। নারিকেলবাড়ি ও জনতা বাজার এলাকার ফিরোজ মোল্লা ও আইয়ুব আলী বলেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বিল-ঝিলে দেশীয় মাছ দেখা যাবে না।
তারা প্রশাসনের প্রতি হাটবাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জোর দাবি জানান।
অবিলম্বে প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














