৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ববির পরিবহন খাতের বেহাল দশা : প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৭৩
ববির পরিবহন খাতের বেহাল দশা : প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান,ববি প্রতিনিধি:বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পরিবহন ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনা ও সংকট বিরাজ করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়াকৃত বাস মিলিয়ে মোট ২৩টি বাস থাকা সত্ত্বেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

শিক্ষার্থীরা জানান, বেশ কয়েকটি বাস শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অনেক বাস দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলাচল করছে। বারবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ভাড়াকৃত বিআরটিসির দ্বিতল বাসে প্রায়ই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থীকে বাসের দরজায় ঝুলে যেতে দেখা যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বিপ্লব বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ২১টি বাস রয়েছে, যা অত্যন্ত কম। বরিশাল ক্লাব রুটের কিছু বিআরটিসি বাস ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলছে। রাতের শিডিউলে নথুল্লাবাদ রুটে দ্বিতীয় তলার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় দাঁড়িয়ে আসতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টির সময় বিআরটিসি বাসের ছাদ দিয়ে পানি ঢুকে ব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।”

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া শিকদার বলেন, “প্রথম বর্ষ থেকেই ছোট বাস, ধাক্কাধাক্কি, নষ্ট ফ্যানসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। রাতে নথুল্লাবাদ থেকে আসা ডবল ডেকার বাসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম যোগ করেন, “করোনার পর থেকে দ্রুত নতুন ব্যাচ আসছে, কিছু বিভাগের আসনও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাস বা অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানো হয়নি। কিছু পুরনো বাসও সংস্কারহীনভাবে চলছে। ফলে পরিবহন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অবিলম্বে নতুন বাস সংযোজন ও নতুন রুট চালুর দাবি জানাচ্ছি, কারণ দূরবর্তী শিক্ষার্থীরাও পরিবহন ফি প্রদান করে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের পরিবহন খাত সংস্কারের দাবির বিষয়টি আমি প্রক্টর ও পরিবহন পুলের ম্যানেজারকে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। বিস্তারিত জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।”

তবে ববি প্রক্টর এবং পরিবহন পুলের ম্যানেজারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ববির পরিবহন খাতের বেহাল দশা : প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

সময়: ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ববির পরিবহন খাতের বেহাল দশা : প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাস, নেই কার্যকর পদক্ষেপআবদুল্লাহ আল শাহিদ খান,ববি প্রতিনিধি:বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পরিবহন ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনা ও সংকট বিরাজ করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়াকৃত বাস মিলিয়ে মোট ২৩টি বাস থাকা সত্ত্বেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। শিক্ষার্থীরা জানান, বেশ কয়েকটি বাস শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অনেক বাস দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলাচল করছে। বারবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন। শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ভাড়াকৃত বিআরটিসির দ্বিতল বাসে প্রায়ই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থীকে বাসের দরজায় ঝুলে যেতে দেখা যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার পূর্ণ দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বিপ্লব বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ২১টি বাস রয়েছে, যা অত্যন্ত কম। বরিশাল ক্লাব রুটের কিছু বিআরটিসি বাস ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলছে। রাতের শিডিউলে নথুল্লাবাদ রুটে দ্বিতীয় তলার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় দাঁড়িয়ে আসতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টির সময় বিআরটিসি বাসের ছাদ দিয়ে পানি ঢুকে ব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।” অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া শিকদার বলেন, “প্রথম বর্ষ থেকেই ছোট বাস, ধাক্কাধাক্কি, নষ্ট ফ্যানসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। রাতে নথুল্লাবাদ থেকে আসা ডবল ডেকার বাসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।” দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম যোগ করেন, “করোনার পর থেকে দ্রুত নতুন ব্যাচ আসছে, কিছু বিভাগের আসনও বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাস বা অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানো হয়নি। কিছু পুরনো বাসও সংস্কারহীনভাবে চলছে। ফলে পরিবহন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অবিলম্বে নতুন বাস সংযোজন ও নতুন রুট চালুর দাবি জানাচ্ছি, কারণ দূরবর্তী শিক্ষার্থীরাও পরিবহন ফি প্রদান করে।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের পরিবহন খাত সংস্কারের দাবির বিষয়টি আমি প্রক্টর ও পরিবহন পুলের ম্যানেজারকে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। বিস্তারিত জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।” তবে ববি প্রক্টর এবং পরিবহন পুলের ম্যানেজারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.