৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সরকারের ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষক ড.রফিকের মা অবিরণ নেছা

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৪:০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
  • / ৩৮
বাংলাদেশ সরকারের ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষক ড.রফিকের মা অবিরণ নেছা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

জাতীয় পর্যায়ে ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড ক্যামিস্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট ড.রফিকুল ইসলামের মা অবিরণ নেছা।

এ বছরের ‘বিশ্ব মা দিবস-২০২৪’ এ স্বপ্নজয়ী এই মাকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব মা দিবস-২০২৪’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে এই স্বপ্নজয়ী মায়ের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক, সনদ ও প্রাইজবন্ড এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি) এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন—মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কেয়া খান।

জানা যায়,অবিরণ নেছার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের সোনাকুড়া গ্রামে। নিজে পড়াশোনা না করলেও ছয় সন্তানের চারজনই দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। স্বপ্নজয়ী এই মায়ের এক ছেলে ড. মো. রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাট চুকিয়ে জাপান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাইড ক্যামিস্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। আরেক ছেলে মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষে ৩১ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে রংপুরে কর্মরত আছেন।

ছোট ছেলে ডা. এস. এম. আরিফুল ইসলাম ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি শেষে ৪০ তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করে, বর্তমানে নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে আছেন। ছোট মেয়ে নুরুন্নাহার নুরী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষে বর্তমানে উপজেলার সোনাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। তার আর দুই সন্তানের একজন ব্যবসায়ী ও বড় মেয়ে গৃহিণী।

নিজে পড়াশোনা না করতে পারলেও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি স্বপ্ন দেখতেন-সন্তানেরা পড়াশোনা শেষ করে একদিন বড় অফিসার হবে। একটা সময় গিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগান দেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। শত কষ্টের মাঝে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান। এ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করলেও, তিনি তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন, যাতে করে শত কষ্টের মাঝেও তিনি তার সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।

স্বপ্নজয়ী মা অবিরণ নেছা  বলেন, ‘আমার সন্তানেরা এখন সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া ছিল আমার জীবনের সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা। যে কারণে সন্তানদের সুশিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। আসলে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হব, কখনো ভাবিনি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের  ‘‘স্বপ্নজয়ী মা’’ সম্মাননা পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার মা রাষ্টীয়ভাবে “স্বপ্নজয়ী মা” নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি মহান আল্লাহপাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাই।সেইসাথে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পরিশেষে, মহান আল্লাহপাক যেন আমার বাবা-মাকে নেক হায়াত দান করেন সেজন্য দেশবাসি সকলের কাছে দোয়া চাই।সকল বাবা-মায়ের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা রইল।”


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ সরকারের ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষক ড.রফিকের মা অবিরণ নেছা

সময়: ০৪:০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
বাংলাদেশ সরকারের ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষক ড.রফিকের মা অবিরণ নেছানোবিপ্রবি প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সন্মাননা পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড ক্যামিস্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট ড.রফিকুল ইসলামের মা অবিরণ নেছা। এ বছরের ‘বিশ্ব মা দিবস-২০২৪’ এ স্বপ্নজয়ী এই মাকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব মা দিবস-২০২৪’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে এই স্বপ্নজয়ী মায়ের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক, সনদ ও প্রাইজবন্ড এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি) এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন—মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কেয়া খান। জানা যায়,অবিরণ নেছার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের সোনাকুড়া গ্রামে। নিজে পড়াশোনা না করলেও ছয় সন্তানের চারজনই দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। স্বপ্নজয়ী এই মায়ের এক ছেলে ড. মো. রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাট চুকিয়ে জাপান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাইড ক্যামিস্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। আরেক ছেলে মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষে ৩১ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে রংপুরে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে ডা. এস. এম. আরিফুল ইসলাম ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি শেষে ৪০ তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করে, বর্তমানে নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে আছেন। ছোট মেয়ে নুরুন্নাহার নুরী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে লেখাপড়া শেষে বর্তমানে উপজেলার সোনাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। তার আর দুই সন্তানের একজন ব্যবসায়ী ও বড় মেয়ে গৃহিণী। নিজে পড়াশোনা না করতে পারলেও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি স্বপ্ন দেখতেন-সন্তানেরা পড়াশোনা শেষ করে একদিন বড় অফিসার হবে। একটা সময় গিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগান দেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। শত কষ্টের মাঝে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান। এ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করলেও, তিনি তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন, যাতে করে শত কষ্টের মাঝেও তিনি তার সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। স্বপ্নজয়ী মা অবিরণ নেছা  বলেন, ‘আমার সন্তানেরা এখন সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া ছিল আমার জীবনের সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা। যে কারণে সন্তানদের সুশিক্ষিত ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছি। আসলে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হব, কখনো ভাবিনি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের  ‘‘স্বপ্নজয়ী মা’’ সম্মাননা পেয়ে আমার অনেক ভালো লাগছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার মা রাষ্টীয়ভাবে “স্বপ্নজয়ী মা” নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি মহান আল্লাহপাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া জানাই।সেইসাথে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পরিশেষে, মহান আল্লাহপাক যেন আমার বাবা-মাকে নেক হায়াত দান করেন সেজন্য দেশবাসি সকলের কাছে দোয়া চাই।সকল বাবা-মায়ের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা রইল।”

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.