৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ নাফিসা ৪.২৫ পেয়ে উত্তৃর্ণ হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় 

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • / ১১৯
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ নাফিসা ৪.২৫ পেয়ে উত্তৃর্ণ হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় 

খুলনা সিটি করপোরেশন প্রতিনিধি

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ (১৫ অক্টোবর)। এ বছর পাস করেছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনে শহীদ হওয়া নাফিসা হোসেন মারওয়া। ৪.২৫ পে‌য়ে‌ উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে শিক্ষার্থীরা যখন উল্লাস করছেন, তখন নাফিসা চিরনিদ্রায় শায়িত। নাফিসার এমন সাফল্যে কাঁদছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

 

জানা যায়, বাসায় না জানিয়ে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতেন কলেজ শিক্ষার্থী নাফিসা। ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরী আন্দোলনে সবসময় ছিলেন সম্মুখ সারিতে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন গত ৫ আগস্ট দুপুরে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন থানা রোডে পুলিশের গুলিতে মারা যান তিনি।

 

নাফিসার বাবা আবুল হো‌সেন বলেন, মেয়ের যাতে লেখাপড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য রান্না করতে দিতাম না। চায়ের দোকান দিয়ে যা দুই টাকা উপার্জন করেছি, মারওয়ার লেখাপড়ায় দিয়েছি। মেয়ে আমাকে না জানিয়ে ১৮ জুলাই থেকে উত্তরায় যেত আন্দোলনে। সারাদিন দোকানে থাকায় খোঁজ পেতাম না। প্রতিবেশীর কাছে জেনে মেয়েকে ঘরে আটকাই। আন্দোলনে যাওয়া নিয়ে খুব রাগ করেছিলাম। তবে মেয়ে আমাকে ফাঁকি দিছে। ৩ আগস্ট বলল, লেখাপড়া নেই, ঘরে থেকে দম বন্ধ লাগছে। সাভারে মামার বাসায় বেড়াতে যাবে। ভেবেছিলাম, সাভারে গেলে আন্দোলনে যাবে না।

 

আবুল হোসেন আরও বলেন, সাভারের বক্তারপুরে মামার বাসায় গিয়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার আন্দোলনে যায়। ৪ আগস্ট দুপুরে মেয়েকে ফোন করলে গোলাগুলির শব্দ শুনি। মেয়ে তখন বলে, আন্দোলনে আছি। আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট থানা রোডে যায় নাফিসা। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফোনে বলল, শেখ হাসিনা পলাইছে। আব্বু, আমি গণভবন যামু। আজ আমারে বাধা দিও না। আমি বললাম, শেখ হাসিনা পলাইছে, তাতে তর বাপের কী! তর বাপে করে চায়ের দোকানদারি।

 

আবুল হোসেন বলেন, রাগ করে ফোন রেখে দিই। দুপুর ২টার দিকে মেয়ের ফোন থেকে এক ছেলে জানায়, আমার মেয়ের বুকে গুলি লাগছে। মেয়েটা সোয়া ২টার দিকে আমারে ফোন করে বলে, ‘আব্বু আমি মরে যামু। লাশটা নিও।’ এটাই মেয়ের শেষ কথা ছিল।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ নাফিসা ৪.২৫ পেয়ে উত্তৃর্ণ হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় 

সময়: ০১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ নাফিসা ৪.২৫ পেয়ে উত্তৃর্ণ হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় খুলনা সিটি করপোরেশন প্রতিনিধি দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ (১৫ অক্টোবর)। এ বছর পাস করেছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনে শহীদ হওয়া নাফিসা হোসেন মারওয়া। ৪.২৫ পে‌য়ে‌ উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে শিক্ষার্থীরা যখন উল্লাস করছেন, তখন নাফিসা চিরনিদ্রায় শায়িত। নাফিসার এমন সাফল্যে কাঁদছেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।   জানা যায়, বাসায় না জানিয়ে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতেন কলেজ শিক্ষার্থী নাফিসা। ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরী আন্দোলনে সবসময় ছিলেন সম্মুখ সারিতে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন গত ৫ আগস্ট দুপুরে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন থানা রোডে পুলিশের গুলিতে মারা যান তিনি।   নাফিসার বাবা আবুল হো‌সেন বলেন, মেয়ের যাতে লেখাপড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য রান্না করতে দিতাম না। চায়ের দোকান দিয়ে যা দুই টাকা উপার্জন করেছি, মারওয়ার লেখাপড়ায় দিয়েছি। মেয়ে আমাকে না জানিয়ে ১৮ জুলাই থেকে উত্তরায় যেত আন্দোলনে। সারাদিন দোকানে থাকায় খোঁজ পেতাম না। প্রতিবেশীর কাছে জেনে মেয়েকে ঘরে আটকাই। আন্দোলনে যাওয়া নিয়ে খুব রাগ করেছিলাম। তবে মেয়ে আমাকে ফাঁকি দিছে। ৩ আগস্ট বলল, লেখাপড়া নেই, ঘরে থেকে দম বন্ধ লাগছে। সাভারে মামার বাসায় বেড়াতে যাবে। ভেবেছিলাম, সাভারে গেলে আন্দোলনে যাবে না।   আবুল হোসেন আরও বলেন, সাভারের বক্তারপুরে মামার বাসায় গিয়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার আন্দোলনে যায়। ৪ আগস্ট দুপুরে মেয়েকে ফোন করলে গোলাগুলির শব্দ শুনি। মেয়ে তখন বলে, আন্দোলনে আছি। আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।   তিনি বলেন, ৫ আগস্ট থানা রোডে যায় নাফিসা। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফোনে বলল, শেখ হাসিনা পলাইছে। আব্বু, আমি গণভবন যামু। আজ আমারে বাধা দিও না। আমি বললাম, শেখ হাসিনা পলাইছে, তাতে তর বাপের কী! তর বাপে করে চায়ের দোকানদারি।   আবুল হোসেন বলেন, রাগ করে ফোন রেখে দিই। দুপুর ২টার দিকে মেয়ের ফোন থেকে এক ছেলে জানায়, আমার মেয়ের বুকে গুলি লাগছে। মেয়েটা সোয়া ২টার দিকে আমারে ফোন করে বলে, ‘আব্বু আমি মরে যামু। লাশটা নিও।’ এটাই মেয়ের শেষ কথা ছিল।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.