৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরণব্যাধিতে আক্রান্ত শহিদুল, মা ছমিরনের আর্তি- আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান!

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১২:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৪৬
মরণব্যাধিতে আক্রান্ত শহিদুল, মা ছমিরনের আর্তি- আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান!

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

একসময় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শহিদুল ইসলাম (৪২)। যা উপার্জন করতে তা দিয়ে বেশ ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ বছর দুয়েক আগে কাজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি করলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার পেটের নাড়ি-ভুড়ি উল্টে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা হলেও সুস্থ হতে পারেননি তিনি। বরং অপারেশনের পর থেকে শুরু হয় নানা জটিলতা। শুরু হয় জীবনযুদ্ধের নতুন এক অধ্যায়- বেঁচে থাকার লড়াই।

এযাবত চিকিৎসার পেছনে একমাত্র সম্বল ৬ শতক ভিটেমাটিও বিক্রি করেছেন তিনি। এখন টাকা নেই, তাই চিকিৎসাও নেই। ফলে দিন দিন শহিদুলের শারীরিক অবস্থা চরম খারাপের দিকে যাচ্ছে। সর্বশেষ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পেটে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে তাকে, যেখানে প্রয়োজন ১০-১৫ লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা যোগাড়ের কোনো উপায় নেই শহিদুলের পরিবারের। ফলে মৃত্যুর কাছে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন তিনি।

শহিদুল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তালুক ইসাদ নয়াটারী গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনে এক স্ত্রী ও চার সন্তানের জনক তিনি।

রোববার (৬ জুন) বিকেলে শহিদুলের বাড়িতে গেলর কথা হয় তার মা সত্তোর্ধ বৃদ্ধা ছমিরন বেগমের সাথে। চোখের সামনে ছেলের এই করুণ অবস্থা তিনি যেন মেনেই নিতে পারছেন না। তাইতো অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমি বেঁচে থাকতে আমার ছেলেটার যেন মৃত্যু না হয়। পৃথিবীর কোন মা’ই এই দৃশ্য সহ্য করতে পারবেনা। সবার কাছে আমার অনুরোধ, আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান।

শহিদুলের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, চিকিৎসার পেছনে যা ছিল সবই তারা শেষ করেছেন। এখন থাকছেন অন্যের জমিতে। তিনিও অসুস্থ, কোন কাজকর্ম করতে পারেননা। এদিকে তার বিবাহিত এক মেয়ে যৌতুক দিতে না পারায় শ্বশুর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে তাদের ঘাড়ে এসে চেপেছে। সব মিলে দারুণ কষ্টে আছেন তারা। ঢাকায় নিয়ে গিয়ে শহিদুলের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সামর্থ্যও তাদের নেই। স্বামীর জীবন বাঁচাতে তাই সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

অসুস্থ শহিদুল জরাজীর্ণ শরীরে যেন কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও বুক ভরা আশা নিয়ে বিরবির করে জানান বাঁচার আকুতি, আমি বাঁচতে চাই। আমাকে সাহায্য করুন।

শহিদুলের প্রতিবেশীরা জানান, তারা শহিদুলের জন্য সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। দেশে ও বিদেশে সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে তার চিকিৎসায় সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তার প্রতিবেশীরাও।

একটা সময় সংসারের জন্য যে মানুষটি দিন-রাত খেটে গেছেন, সেই শহিদুল আজ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে জীবন ভিক্ষা চাইছেন। একটি প্রাণ বাঁচানোর এই লড়াইয়ে আমরা কি তার পাশে দাঁড়াতে পারি না? সাহায্য করতে শহিদুলের মোবাইল নম্বর 01784774560 (বিকাশ/নগদ)। যাচাই করে পাঠাবেন।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

মরণব্যাধিতে আক্রান্ত শহিদুল, মা ছমিরনের আর্তি- আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান!

সময়: ১২:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
মরণব্যাধিতে আক্রান্ত শহিদুল, মা ছমিরনের আর্তি- আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান!পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি একসময় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শহিদুল ইসলাম (৪২)। যা উপার্জন করতে তা দিয়ে বেশ ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ বছর দুয়েক আগে কাজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি করলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার পেটের নাড়ি-ভুড়ি উল্টে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা হলেও সুস্থ হতে পারেননি তিনি। বরং অপারেশনের পর থেকে শুরু হয় নানা জটিলতা। শুরু হয় জীবনযুদ্ধের নতুন এক অধ্যায়- বেঁচে থাকার লড়াই। এযাবত চিকিৎসার পেছনে একমাত্র সম্বল ৬ শতক ভিটেমাটিও বিক্রি করেছেন তিনি। এখন টাকা নেই, তাই চিকিৎসাও নেই। ফলে দিন দিন শহিদুলের শারীরিক অবস্থা চরম খারাপের দিকে যাচ্ছে। সর্বশেষ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পেটে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে তাকে, যেখানে প্রয়োজন ১০-১৫ লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা যোগাড়ের কোনো উপায় নেই শহিদুলের পরিবারের। ফলে মৃত্যুর কাছে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন তিনি। শহিদুল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তালুক ইসাদ নয়াটারী গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনে এক স্ত্রী ও চার সন্তানের জনক তিনি। রোববার (৬ জুন) বিকেলে শহিদুলের বাড়িতে গেলর কথা হয় তার মা সত্তোর্ধ বৃদ্ধা ছমিরন বেগমের সাথে। চোখের সামনে ছেলের এই করুণ অবস্থা তিনি যেন মেনেই নিতে পারছেন না। তাইতো অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমি বেঁচে থাকতে আমার ছেলেটার যেন মৃত্যু না হয়। পৃথিবীর কোন মা’ই এই দৃশ্য সহ্য করতে পারবেনা। সবার কাছে আমার অনুরোধ, আমার ছেলেটাক সবাই বাঁচান। শহিদুলের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, চিকিৎসার পেছনে যা ছিল সবই তারা শেষ করেছেন। এখন থাকছেন অন্যের জমিতে। তিনিও অসুস্থ, কোন কাজকর্ম করতে পারেননা। এদিকে তার বিবাহিত এক মেয়ে যৌতুক দিতে না পারায় শ্বশুর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে তাদের ঘাড়ে এসে চেপেছে। সব মিলে দারুণ কষ্টে আছেন তারা। ঢাকায় নিয়ে গিয়ে শহিদুলের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সামর্থ্যও তাদের নেই। স্বামীর জীবন বাঁচাতে তাই সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। অসুস্থ শহিদুল জরাজীর্ণ শরীরে যেন কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। তবুও বুক ভরা আশা নিয়ে বিরবির করে জানান বাঁচার আকুতি, আমি বাঁচতে চাই। আমাকে সাহায্য করুন। শহিদুলের প্রতিবেশীরা জানান, তারা শহিদুলের জন্য সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। দেশে ও বিদেশে সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে তার চিকিৎসায় সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তার প্রতিবেশীরাও। একটা সময় সংসারের জন্য যে মানুষটি দিন-রাত খেটে গেছেন, সেই শহিদুল আজ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে জীবন ভিক্ষা চাইছেন। একটি প্রাণ বাঁচানোর এই লড়াইয়ে আমরা কি তার পাশে দাঁড়াতে পারি না? সাহায্য করতে শহিদুলের মোবাইল নম্বর 01784774560 (বিকাশ/নগদ)। যাচাই করে পাঠাবেন।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.