৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের আহ্বান।

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৫:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / ২৮
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের আহ্বান।
  1. চাকুরী সংযোগ

কুয়ালালামপুর, ৪ জুলাই:
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের জন্য দেশটির সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ক্লাং এমপি ও আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (APHR)-এর সহ-সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মালয়েশিয়ার উচিত এই দুর্নীতিপূর্ণ ও শোষণমূলক পদ্ধতি বাতিল করা।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থা সংশোধন না হলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এখন দায়িত্বে আছি, সবাই বলছে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা অবশ্যই বাতিল করতে হবে।”

চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত গুনতে হয়, যা তাদের ঋণে জর্জরিত করে তোলে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে কারণ দুই দেশের মধ্যে থাকা চুক্তিটি কার্যকর নয় এবং তাতে কোনো জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের বিধান নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি প্রয়োজন। এই চুক্তি থাকলে সিন্ডিকেট বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা আসবে এবং শ্রমিকদের শূন্য খরচে নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারকে শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে নেতৃত্ব দেখাতে হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে, যা কার্যকর থাকবে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়োগ সংস্থাকে সুযোগ দেওয়ার ফলে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আসিফ নজরুল আরও জানান, “আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা— এক, তাদের শর্ত মেনে ২৫, ৫০ বা ১০০ সংস্থার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো; দুই, শ্রমিক পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করা।” তিনি বলেন, মালয়েশিয়া আগামী এক বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের আহ্বান।

সময়: ০৫:০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের আহ্বান।
  1. চাকুরী সংযোগ
কুয়ালালামপুর, ৪ জুলাই: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে চলমান ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা বাতিলের জন্য দেশটির সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ক্লাং এমপি ও আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (APHR)-এর সহ-সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মালয়েশিয়ার উচিত এই দুর্নীতিপূর্ণ ও শোষণমূলক পদ্ধতি বাতিল করা। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থা সংশোধন না হলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা এখন দায়িত্বে আছি, সবাই বলছে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা অবশ্যই বাতিল করতে হবে।” চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত গুনতে হয়, যা তাদের ঋণে জর্জরিত করে তোলে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আদায় সম্ভব হচ্ছে কারণ দুই দেশের মধ্যে থাকা চুক্তিটি কার্যকর নয় এবং তাতে কোনো জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের বিধান নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি প্রয়োজন। এই চুক্তি থাকলে সিন্ডিকেট বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা আসবে এবং শ্রমিকদের শূন্য খরচে নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারকে শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে নেতৃত্ব দেখাতে হবে।” প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে, যা কার্যকর থাকবে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়োগ সংস্থাকে সুযোগ দেওয়ার ফলে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসিফ নজরুল আরও জানান, “আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা— এক, তাদের শর্ত মেনে ২৫, ৫০ বা ১০০ সংস্থার মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো; দুই, শ্রমিক পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করা।” তিনি বলেন, মালয়েশিয়া আগামী এক বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগে আরও স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.