৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৫:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৫০
লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।

মোঃ ইব্রাহিম সরকার,আদিতমারী লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে এক উঠানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির—যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার। ধূপকাঠির সুবাস আর আতরের গন্ধ, উলুধ্বনি আর আজান—সব মিলেই সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতির এক বিরল পরিবেশ।

লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির প্রায় ২০০ বছর ধরে একই উঠানে অবস্থান করছে। স্থানীয়রা জানান, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে শহরে আগত মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশেই একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করেন, যা পরে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। সেই থেকে একই প্রাঙ্গণে দুই ধর্মীয় উপাসনালয়ের কার্যক্রম চলমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হওয়ার পর পূজার কার্যক্রম শুরু হয়। কখনো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি এখানে। বরং উভয় ধর্মের মানুষ শালীনতা বজায় রেখে সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসব পালন করে আসছেন।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী বলেন, “১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এভাবে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে। জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত আমি সামান্যতম বিশৃঙ্খলার ঘটনাও দেখিনি।”

পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আল আমিন হোসেন জানান, “মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দুই ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করে আসছেন।”

এ বিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় দুই শতাব্দী ধরে একই উঠানে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে যে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখেছেন, তা গোটা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।”

বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির এলাকা সাজসজ্জায় উৎসবমুখর। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সম্প্রীতির নিদর্শন দেখতে ভিড় করছেন। বিদেশি কূটনীতিকরাও এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য এখানে আসেন।

লালমনিরহাটের কালীবাড়ীতে এক উঠানে মসজিদ-মন্দির—এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক, যা বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতির উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।

সময়: ০৫:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
লালমনিরহাটে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।মোঃ ইব্রাহিম সরকার,আদিতমারী লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে এক উঠানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির—যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার। ধূপকাঠির সুবাস আর আতরের গন্ধ, উলুধ্বনি আর আজান—সব মিলেই সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতির এক বিরল পরিবেশ। লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির প্রায় ২০০ বছর ধরে একই উঠানে অবস্থান করছে। স্থানীয়রা জানান, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে শহরে আগত মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশেই একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করেন, যা পরে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। সেই থেকে একই প্রাঙ্গণে দুই ধর্মীয় উপাসনালয়ের কার্যক্রম চলমান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হওয়ার পর পূজার কার্যক্রম শুরু হয়। কখনো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি এখানে। বরং উভয় ধর্মের মানুষ শালীনতা বজায় রেখে সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসব পালন করে আসছেন। কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী বলেন, “১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এভাবে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে। জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত আমি সামান্যতম বিশৃঙ্খলার ঘটনাও দেখিনি।” পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আল আমিন হোসেন জানান, “মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দুই ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করে আসছেন।” এ বিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রায় দুই শতাব্দী ধরে একই উঠানে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে যে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখেছেন, তা গোটা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।” বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির এলাকা সাজসজ্জায় উৎসবমুখর। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সম্প্রীতির নিদর্শন দেখতে ভিড় করছেন। বিদেশি কূটনীতিকরাও এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য এখানে আসেন। লালমনিরহাটের কালীবাড়ীতে এক উঠানে মসজিদ-মন্দির—এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক, যা বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতির উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.