শরীয়তপুরে জাজিরা থানার ওসি মাইনুল আতঙ্কে আওয়ামী- অঙ্গসংগঠন।
- সময়: ১১:৪০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৫২

মোঃ ওবায়েদুর রহমান সাইদ শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর-১ আসনের আওতাধীন শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা দশকের পর দশক ধরে যাকে বলা হয় আওয়ামী লীগের প্রাণভোটার ঘাঁটি। এখানকার বহু মানুষ ব্যক্তিগত অভিমান বা ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও ভোটের বাক্সে শেষ ভরসা রাখেন নৌকায়। বিগত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলো তারই প্রমাণ। কিন্তু এই অটল ভোটঘাঁটির ভেতরের চিত্র এখন দ্রুত পাল্টে দিচ্ছেন জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল।
রুটিনে গ্রেপ্তার, ভেতরে আতঙ্ক,স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির একাধিক সূত্র জানায়—ওসি মাইনুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার টার্গেটে পড়েছেন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা। রুটিন অভিযানের নামে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এর ফলে দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অদৃশ্য এক আতঙ্ক।অপরদিকে, যারা নানা কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত বা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন—তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের নীরব স্বস্তি ও মুচকি হাসি।
গভীর রাতে ‘নাগিব বাহিনীর’ পতন
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে জয়নগর ও চন্দ্রপুর এলাকার প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা, স্থানীয়ভাবে ‘নাগিব বাহিনীর’ প্রধান এবং শরীয়তপুর ১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নাগিব মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে জাজিরা থানা পুলিশ।স্থানীয়দের ভাষায়—তিনি ছিলেন “রাতের রাজা”, যিনি বহুদিন ধরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশ বলছে—তিনি ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, ভোট ডাকাতি ও একাধিক মামলার আসামি।ওসি মাইনুল জানান,
“আমার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। যারা সন্ত্রাসী ও গডফাদার, তাদের গ্রেপ্তার করবই। নাগিব মোল্লা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। রুটিন কাজের অংশ হিসেবেই তাকে ধরা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রিমান্ড চাইব। জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেলে অস্ত্রও উদ্ধার করা হবে।”দুই মেরুর প্রতিক্রিয়া নাগিব মোল্লার গ্রেপ্তারকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের একটি অংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছে—বলছে, এলাকায় দীর্ঘদিন পর শান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী ঘাঁটির ভেতরে অন্য অংশ এটিকে দেখছে রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর একটি বার্তা হিসেবে।
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন খেলা?
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে -জাজিরার রাজনীতি কখনোই শুধু দল বনাম বিরোধী দলে সীমাবদ্ধ ছিল না। আওয়ামী লীগের ভেতরে গোষ্ঠীভিত্তিক সংঘর্ষ ও নিয়ন্ত্রণযুদ্ধ সবসময়ই সক্রিয়। ওসি মাইনুলের ধারাবাহিক অভিযান সেই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি কেবল আইনের প্রয়োগ, নাকি এর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














