সীমানা প্রাচীরে ভিতরে রেকর্ডিও রাস্তা দখলের অভিযোগ, দুর্ভোগের স্বীকার হাজারও মানুষ
- সময়: ০৬:৪২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৮৬

অন্যতম বৃহত্তম হাট যাদুরানী। এই হাটের দক্ষিণপাশে প্রবেশপথ ধীরগন্জ ও হরিপুরমুখী একটি
একটি রাস্তা পাকা না হওয়ায় দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে হাজারও মানুষ।
২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি, খাল খন্দে ভরা গর্তে দুর্ঘটনায় মুখে পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত মানুষ।
হরিপুর স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলা কার্যালয়ের সিএস রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তা উদ্ধারকরণ চিঠি অনুযায়ী রাস্তার চেনেজ ৩৪৬০ থেকে ৩৫০০মিটার এর ৪০ মিটার রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
সিএস রেকর্ড অনুযায়ী সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা দখল করার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আবুল হোসেন ফারুকী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার অশোক মন্ডল ১৩/০৪/২২ ইং তারিখের রিপোর্ট অনুয়ায়ী সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা উদ্ধার ও মালিকানা জমি ফেরত প্রদান করা যেতে পারে বলে তৎকালীন এসিল্যান্ড রাকিবুজ্জামান কে রিপোর্ট প্রদান করেন।
সার্ভেয়ার অশোক মন্ডল তার রিপোর্টে বলেন, নালিশী সম্পওি সংলগ্ন একটি রেকর্ডীয় সরকারি রাস্তা রয়েছে। রাস্তা ও মালিকানা জমির সীমানা নির্ধারণ করি।তিনি আরও বলেন, মালিকানা জমির উপর দিয়ে বর্তমানে পাকা রাস্তা আছে।মালিকানা জমির উপর দিয়ে চলমান থাকায় জমির মালিককে জমি ফেরত প্রদান/রাস্তা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা যেতে পারে মর্মে এসিল্যান্ড রাকিবুজ্জামানকে রিপোর্ট দেন।
সিএস রেকর্ড অনুযায়ী, রাস্তাটি আবুল হোসেন ফারুকীর বাড়ি মধ্যে দিয়ে থাকায় বর্তমানে মালিকানা আব্দুল হাই এর মালিকানা জমির উপর দিয়ে জনগন চলাফেরা করছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় কয়েকজন জানান, এই রাস্তা দুপাশে দুটি স্কুলে প্রায় ৫০০ শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সাপ্তাহিক হাট মঙ্গলবারে হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে।বর্ষাকালে এই রাস্তাটি পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।তার ফলে গাড়িগুলো দুর্ঘটনায় পরে যায়।
এই রাস্তা যার দিকেই থাক।আমরা চাই এটির সমাধান করে রাস্তাটি পাকা করে জনদুর্ভোগ যেন লাঘব হয়
আব্দুল হাই দাবি করেন, আমি বর্তমানে চলমান রাস্তার মালিকানাধীন জমির মালিক। আমি প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন দিয়ে আমি আদালতে একটি মামলা করি।
তিনি আরও বলেন,তৎকালীন হরিপুরের এসিল্যান্ড রাকিবুজ্জামানকে ১৭/১১/২৪ ইং তারিখে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম রেকর্ডীয় রাস্তা উদ্ধারের চিঠি দেন।
ফলে গত ৩০/০৭/২৪ ইং তারিখে মামলার রায় মোকাম হরিপুর সহকারি জজ জনাব ফয়সাল আহমেদ ব্যক্তি মালিকানা সত্ত্বে আব্দুল হাই এর অনুকূলে রায় দেন এবং রাস্তা উদ্ধার, মালিকানা জমি বুঝে দেওয়ার জন্য ডিগ্রী প্রদান করেন।
পরবর্তী আবুল হোসেন ফারুকীর আপিলে সেই রায় আটকে যায়।যার ফলে রাস্তাটি উদ্ধারকরণ কাজটি মামলা জটিলতায় আটকে যায়। যার ফলে দিন দিন জনদূ্র্ভোগে বাড়তে থাকে মানুষের।
অভিযুক্ত আবুল হোসেন ফারুকী বলেন, আমার বাড়ি করার পূর্বেই এখান দিয়ে রাস্তা ছিল। এই রাস্তা পাকাকরণের কাজ আব্দুল হাই করতে দিচ্ছেন না।তিনি বলেন,এই জায়গা নিয়ে কোর্টে মামলা চলমান আছে।আমি চাই বর্তমানে যেই দিক দিয়ে রাস্তা আছে সেই দিক দিয়ে যেন রাস্তা হয়।
তবে তিনি স্বীকার করেন,তার বাড়ির সীমানা প্রাচীর এর ভিতর দিয়ে একটি রেকর্ডীয় রাস্তা আছে।
আব্দুল হাই আরও বলেন,সিএস ম্যাপ অনুযায়ী এখানে একটি রেকর্ডীয় রাস্তা আছে।বর্তমান চলমান যে রাস্তাটি এটা আমার মালিকানা জমি দিয়ে।
এই নিয়ে কোর্টে একটি মামলায় আমার পক্ষে রায় দেন আদালত এবং সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তাটি উদ্ধারের জন্য আদালত কর্তৃক টিম গঠন করা হয়।কিন্তু আবুল হাসান ফারুকী বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি আপিল করে রায় আটকে দেন।
আমি চাই ম্যাপ অনুযায়ী যে রেকর্ডীয় রাস্তাটি আছে সেটি উদ্ধার করা হলে রাস্তা বর্তমানে যে এল আকৃতির আছে সেটি সোজাসুজি হলে জনগণের বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আমগাঁও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা জাহিরুল ইসলাম বলেন,সরকারি রাস্তা যদি কেউ দখল করে থাকে তাহলে সেটি বৈধ হবে না।
আমার আগের কর্মকর্তা মহেশ বাবু এই রাস্তাটি উদ্ধারের জন্য তৎকালীন এসিল্যান্ড বরাবর চিঠি দেন।
আর বর্তমানে যে জায়গাটি নিয়ে সমস্যা সেটি সুরাহা হলে রাস্তাটি হতে মানুষের ভোগান্তি কমবে।
হরিপুর এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, চেনেজ এর ৪০ মিটার রাস্তা নিয়ে সমস্যা।এখানে রেকর্ডীয় রাস্তা বিদ্যামান রয়েছে। এই রেকর্ডীয় রাস্তাটি উদ্ধার হলে আমরা কাজ করতে পারব।এই রাস্তাটি যাদুরানী বাজার কেন্দ্রীক হওয়ায় অনেক মানুষ এখান দিয়ে যায় এবং ভোগান্তির স্বীকার হয়।এখানে রেকর্ডীয় রাস্তাটি উদ্ধার হলে আমরা আমাদের কাজ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করব এবং এই রাস্তাটি উদ্ধার হওয়া জরুরি দরকার মনে করি।
হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এই অভিযোগটি আমার কাছে এসেছে।সেই রাস্তাটি আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি।সেখানে দুই পাশে যাদুরানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নন্দগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।বর্তমানে চলমান যে রাস্তাটি সেখানে একজন ব্যক্তি দাবি করছে এই রাস্তাটি তার মালিকানা জমি এবং পাশ্ববর্তী যে বাড়ি রয়েছে সেটি দিয়ে একটি সরকারি একটি রেকর্ডীয় রাস্তা চলমান।এই দুই ব্যক্তির দ্বন্দের কারণে এলজিইডি এই রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহন করেছিল কিন্তু বাকি রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করতে পারলেও এই জায়গায় কাজ করতে পারেনি।যেহেতু দুই পক্ষের একটি বিবাদমান সমস্যা আছে।রাস্তার কাজ না হওয়ার কারণে জনসাধারণের ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।
এই বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের উচ্চতর আদালতে একটি মামলা চলমান থাকায় আমরা এই জায়গাটির সমস্যা নিরসনে হস্তক্ষেপ করতে পারছি না।বিষয়টি সমাধান হলে আমরা এলজিইডি মাধ্যমে রাস্তা করে দিব।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














