৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৯:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৫৯
সুন্দরগঞ্জে খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

মোঃ রিয়াদ প্রধান

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দহবন্দ ইউনিয়নের পিনুর মোড়ে মো. বাদশা মিয়া (৫৫) নামের ওই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের হুড়াভায়া খাঁ গ্রামের মো. আবু হোসেনের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সারগুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। অভিযানের সময় ঘরের মালিক বাদশা মিয়াকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এসব সার বিসিআইসি ডিলার ননি গোপাল সরকার ও মৃত প্রদীপ চন্দ্র সরকারের। তাঁদের গোডাউন সোনারায় ইউনিয়নের ছাইতানতোলা বাজার এবং রামগঞ্জ ইউনিয়নের ডোমের হাট বাজারে অবস্থিত। তবে এই সারগুলো দহবন্দ ইউনিয়নের খুচরা বিক্রেতার ঘরে কীভাবে এলো—তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা বাফার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, “১৩৩ বস্তা সার ডিলার ননি গোপাল সরকার উত্তোলন করেছেন। সারবাহী ট্রাকের নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো ন ১৯-৫৯৮৫।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সার কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে খুচরা ব্যবসায়ীর ঘরে রাখা হয়েছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো আমার জিম্মায় রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ডিলার ননি গোপাল সরকারের ছেলে রিপন বলেন, “প্রদীপ চন্দ্র সরকার ও আমাদের বরাদ্দ করা সার একসঙ্গে তোলা হয়েছিল। আমাদের অংশ আমরা নিয়েছি, আর প্রদীপ চন্দ্রের অংশ তার ম্যানেজারকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তিনি ভালো বলতে পারবেন।”

ডিলার প্রদীপ চন্দ্র সরকারের ম্যানেজার জয়ন্ত বাবু বলেন, “আমার গোডাউনে জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে বাদশা মিয়ার ঘরে সারগুলো রাখা হয়েছিল। কোথাও বিক্রি করা হয়নি।”

ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

সুন্দরগঞ্জে খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

সময়: ০৯:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
সুন্দরগঞ্জে খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দমোঃ রিয়াদ প্রধান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দহবন্দ ইউনিয়নের পিনুর মোড়ে মো. বাদশা মিয়া (৫৫) নামের ওই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের হুড়াভায়া খাঁ গ্রামের মো. আবু হোসেনের ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সারগুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। অভিযানের সময় ঘরের মালিক বাদশা মিয়াকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এসব সার বিসিআইসি ডিলার ননি গোপাল সরকার ও মৃত প্রদীপ চন্দ্র সরকারের। তাঁদের গোডাউন সোনারায় ইউনিয়নের ছাইতানতোলা বাজার এবং রামগঞ্জ ইউনিয়নের ডোমের হাট বাজারে অবস্থিত। তবে এই সারগুলো দহবন্দ ইউনিয়নের খুচরা বিক্রেতার ঘরে কীভাবে এলো—তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাইবান্ধা জেলা বাফার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, “১৩৩ বস্তা সার ডিলার ননি গোপাল সরকার উত্তোলন করেছেন। সারবাহী ট্রাকের নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো ন ১৯-৫৯৮৫।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সার কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে খুচরা ব্যবসায়ীর ঘরে রাখা হয়েছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো আমার জিম্মায় রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে ডিলার ননি গোপাল সরকারের ছেলে রিপন বলেন, “প্রদীপ চন্দ্র সরকার ও আমাদের বরাদ্দ করা সার একসঙ্গে তোলা হয়েছিল। আমাদের অংশ আমরা নিয়েছি, আর প্রদীপ চন্দ্রের অংশ তার ম্যানেজারকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তিনি ভালো বলতে পারবেন।” ডিলার প্রদীপ চন্দ্র সরকারের ম্যানেজার জয়ন্ত বাবু বলেন, “আমার গোডাউনে জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে বাদশা মিয়ার ঘরে সারগুলো রাখা হয়েছিল। কোথাও বিক্রি করা হয়নি।” ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.