স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান শেষ করে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা শিশু নিহত
- সময়: ০৭:০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৯

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর অফিস।
সকালে স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মার্জিয়া আক্তার(৮)। সারাদিন হাসি মুখে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে আনন্দের সাথে সময় কাটিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে স্কুলে মধ্যাহ্ন ভোজ না করে খাবারের প্যাকেট নিয়ে চাচার সাথে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিলছিল সে। স্কুলের শিক্ষকদের বলেছিল বাড়িতে ছোট ভাই আছে, আমি তার সাথে বসে খাবো। কিন্তু কে জানতো সারাদিন হাসি খুশি থাকা মার্জিয়ার মুখটি এক মুহুর্তে নিস্তব্ধ হয়ে যাবে।
নীলফামারীতে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয় স্কুল শিক্ষার্থী মার্জিয়া। বৃহস্পতিবার(২০ নভেম্বর) দুপুরে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের মোড়লের ডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মার্জিয়া সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের পীরের মাজার শাহ পাড়া এলাকার মোস্তাকিম শাহের মেয়ে ও শহরের মমতাজ মেমোরিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় কন্যাকে হারিয়ে তার পোশাক হাতে নিয়ে পাগলের মতো কাঁদছেন পিতা মোস্তাকিম।
স্কুলের শিক্ষক ও ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ছোট্ট মার্জিয়া। অনুষ্টানে সে নৃত্য পরিবেশনও করে। দুপুরে অনুষ্ঠান শেষে চাচা হাসু শাহের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মডেল মসজিদের সামনে তার পানির পিপাসা লাগে। রাস্তা থেকে নিরাপদ দুরত্বে মোটরসাইকেলে মার্জিয়াকে বসিয়ে রেখে কাছের হোটেল থেকে পানি আনতে যান চাচা। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মার্জিয়া।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকটি আটক করে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলে।
মোড়লের ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, মেয়েটি আমার মেয়ে সিনথিয়ার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে পড়ে। আজকের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমার মেয়েসহ এক সঙ্গে তারা নৃত্য দিয়েছে। কে জানতো কিছুক্ষণ পরে তার মৃত্যুর খবর শুনতে হবে।
নিহত মার্জিয়া চাচা হাসু শাহ বলেন, মোড়লের ডাঙ্গার কাছাকাছি পৌছালে আমার ভাতিজি মার্জিয়ার পানির পিপাসা পায়। রাস্তা থেকে নিরাপদ দুরত্বে মোটরসাইকেলে মার্জিয়াকে বসিয়ে রেখে আমি পানি নিতে যাচ্ছিলাম, মুহুর্তের মধ্যে ট্রাকটি এসে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম.আর সাঈদ বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে। তবে চালক ও লেপার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ট্রাকটি থানায় নিতে চাইলে উৎসুক জনতা গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে রাখে। কিছুক্ষণ পর তারা ট্রাকটি ভেঙ্গে আগুন লাগিয়ে দেয়।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














