৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিণাকুণ্ডুতে ভিক্ষুক বিধবার ভাতার টাকা দেবরের পকেটে

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৪:৩০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • / ৬৮
হরিণাকুণ্ডুতে ভিক্ষুক বিধবার ভাতার টাকা দেবরের পকেটে

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ

বাবা মা আদর করে নাম রেখেছিলেন আখিরন। কিন্তু এখন তার দুই আখি জুড়ে কেবলই আঁধার কালো। মানুষের দ্বারে সাহায্য ভিক্ষা করেই পেটে ভাত জোটাতে হয় তার। জুটলে খান, না জুটলে উপোস থাকেন। হরিনাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদাহ- ভেড়াখালী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের মৃত জিয়ারত আলীর স্ত্রী আখিরন নেছার (৪২) জীবন কাটছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে। উপরন্তু পাঁচ বছর ধরে এই অসহায় বিধবার ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করছেন তারই দেবর।

২৫ বছর পূর্বে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধী আখিরন নেছার বিয়ে হয় ঐ একই ইউনিয়নের ভেড়াখালী গ্রামের আরেক মানসিক প্রতিবন্ধী জিয়ারত হোসেনের সাথে। ৪০ বছর বয়স্ক আখিরন নেছা ১১ বছর পূর্বে তার মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামীকে হারান। এরপর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। একটি বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরে ঘুরে অবশেষে ছয় বছর পূর্বে তার দেবর খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় একটি বিধবা ভাতা কার্ড পান। কিন্তু এরপরেও ঘুরেনি তার ভাগ্যের চাকা। বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় নাম থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছেন না কোন ভাতা। আখিরন নেছার মানসিক প্রতিবন্ধিতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঐ কার্ড নিজের কাছে রেখে গত পাঁচ বছর বছর ধরে ভাতা তুলে নেচ্ছেন তারই দেবর খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমান ঐ একই গ্রামের মৃত মুনসুর মন্ডলের পুত্র। আখিরন নেছা কার্ড নিতে একাধিকবার খলিলুর রহমানের নিকট গেলে তিনি কোন কার্ড হয়নি বলে আখিরন নেছাকে জানান। সম্প্রতি আখিরন নেছা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পাঁচ বছর পূর্বেই তার বিধবা ভাতার কার্ড হয়েছে বলে পরিষদ থেকে জানতে পারেন। এ বিষয়ে খলিলুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হাসুয়া নিয়ে আখিরন নেছাকে মারতে যান বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এদিকে এভাবে মিথ্যা বলে গত পাচ বছর ধরে খলিলুর রহমান ঐ অসহায় মহিলার বিধবা ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্হানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, আখিরন নেছা ও তার কন্যার ভিক্ষা ও সাহায্যের টাকাও খলিলুর রহমান কৌশলে নিয়ে নেন।

আখিরন নেছা বলেন, আমি না খেয়ে থাকি, ছেঁড়া শাড়ি পড়ে থাকি অথচ আমার কার্ড থাকার পরও ভাতা পায়না। আমার টাকা আরেকজন মেরে খাই। এই বিচার কে করবে?

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টা এলাকার প্রায় সবাই জানে। অসহায় মহিলার সাথে এটা করা খুবই দুঃখজনক। এর যথাযথ বিহীত হওয়া দরকার।

জোড়াদাহ ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, আখিরন নেছার মত অসহায় মানুষের ভাতার কার্ডের টাকা আত্মসাৎ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করব। সামাজিকভাবেও অপরাধীর বিচার হওয়া দরকার।

হরিনাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা ছুটিতে থাকায়, সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) তানভীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিধবা ভাতার কার্ড এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

হরিণাকুণ্ডুতে ভিক্ষুক বিধবার ভাতার টাকা দেবরের পকেটে

সময়: ০৪:৩০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩
হরিণাকুণ্ডুতে ভিক্ষুক বিধবার ভাতার টাকা দেবরের পকেটেস্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ বাবা মা আদর করে নাম রেখেছিলেন আখিরন। কিন্তু এখন তার দুই আখি জুড়ে কেবলই আঁধার কালো। মানুষের দ্বারে সাহায্য ভিক্ষা করেই পেটে ভাত জোটাতে হয় তার। জুটলে খান, না জুটলে উপোস থাকেন। হরিনাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদাহ- ভেড়াখালী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের মৃত জিয়ারত আলীর স্ত্রী আখিরন নেছার (৪২) জীবন কাটছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে। উপরন্তু পাঁচ বছর ধরে এই অসহায় বিধবার ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করছেন তারই দেবর। ২৫ বছর পূর্বে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মৃদু মানসিক প্রতিবন্ধী আখিরন নেছার বিয়ে হয় ঐ একই ইউনিয়নের ভেড়াখালী গ্রামের আরেক মানসিক প্রতিবন্ধী জিয়ারত হোসেনের সাথে। ৪০ বছর বয়স্ক আখিরন নেছা ১১ বছর পূর্বে তার মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামীকে হারান। এরপর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। একটি বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরে ঘুরে অবশেষে ছয় বছর পূর্বে তার দেবর খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় একটি বিধবা ভাতা কার্ড পান। কিন্তু এরপরেও ঘুরেনি তার ভাগ্যের চাকা। বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় নাম থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছেন না কোন ভাতা। আখিরন নেছার মানসিক প্রতিবন্ধিতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঐ কার্ড নিজের কাছে রেখে গত পাঁচ বছর বছর ধরে ভাতা তুলে নেচ্ছেন তারই দেবর খলিলুর রহমান। খলিলুর রহমান ঐ একই গ্রামের মৃত মুনসুর মন্ডলের পুত্র। আখিরন নেছা কার্ড নিতে একাধিকবার খলিলুর রহমানের নিকট গেলে তিনি কোন কার্ড হয়নি বলে আখিরন নেছাকে জানান। সম্প্রতি আখিরন নেছা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পাঁচ বছর পূর্বেই তার বিধবা ভাতার কার্ড হয়েছে বলে পরিষদ থেকে জানতে পারেন। এ বিষয়ে খলিলুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হাসুয়া নিয়ে আখিরন নেছাকে মারতে যান বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এদিকে এভাবে মিথ্যা বলে গত পাচ বছর ধরে খলিলুর রহমান ঐ অসহায় মহিলার বিধবা ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্হানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, আখিরন নেছা ও তার কন্যার ভিক্ষা ও সাহায্যের টাকাও খলিলুর রহমান কৌশলে নিয়ে নেন। আখিরন নেছা বলেন, আমি না খেয়ে থাকি, ছেঁড়া শাড়ি পড়ে থাকি অথচ আমার কার্ড থাকার পরও ভাতা পায়না। আমার টাকা আরেকজন মেরে খাই। এই বিচার কে করবে? ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টা এলাকার প্রায় সবাই জানে। অসহায় মহিলার সাথে এটা করা খুবই দুঃখজনক। এর যথাযথ বিহীত হওয়া দরকার। জোড়াদাহ ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, আখিরন নেছার মত অসহায় মানুষের ভাতার কার্ডের টাকা আত্মসাৎ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করব। সামাজিকভাবেও অপরাধীর বিচার হওয়া দরকার। হরিনাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা ছুটিতে থাকায়, সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) তানভীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিধবা ভাতার কার্ড এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.