অসম্পূর্ণ জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতিবাদস্বরূপ কক্সবাজার গিয়েছি” — শোকজের জবাবে হাসনা
- সময়: ০৮:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
- / ৬৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা ● ৭ আগস্ট ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন কক্সবাজার সফরের বিষয়ে শোকজের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, এ সফর ছিল তার ‘নীরব প্রতিবাদ’ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক করণীয় নিয়ে ভাবনার একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দলের শোকজ নোটিশের জবাব লিখিতভাবে দেন তিনি এবং সেই জবাব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়ায় অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু উপাদান ছিল, যা তাকে মর্মাহত করে।
ঘোষণাপত্র সংশ্লিষ্ট আপত্তির বিষয়ে হাসনাত বলেন, “ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব জনগণ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর অর্পণ করবে—এটি অসত্য এবং মৌলিক পরিবর্তনের পথে অন্তরায়। আমরা শুরু থেকেই গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে এসেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৪ আগস্টের আয়োজনে আন্দোলনের বহু আহত এবং নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসনাতের ভাষায়, “এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক ব্যর্থতাও। সেখানে অংশ নেওয়া আমার কাছে অনুচিত মনে হয়েছে। যেখানে ঐক্যের বদলে বিভাজন, শহিদদের বদলে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেখানে উপস্থিত থাকার কোনো প্রয়োজন আমি অনুভব করিনি।”
নিজের সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ফোন করি, না পেয়ে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের কথা জানাই এবং অনুরোধ করি বিষয়টি আহ্বায়ককে জানাতে। কিছুক্ষণ পর আমাকে জানানো হয়, আহ্বায়ক বিষয়টি জেনেছেন এবং সম্মতিও দিয়েছেন।”
পরে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম ও তাসনিম জারা-খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি তার সফরে যুক্ত হন বলেও জানান তিনি।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হাসনাত বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল একান্তে বসে ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণপরিষদ ও নতুন সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে চিন্তা করা। সাগরের পাড়ে বসে আমি ভাবতে চেয়েছি গণঅভ্যুত্থান ও নাগরিক পার্টির কাঠামো নিয়ে।”
কক্সবাজার সফর নিয়ে গুজবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “গুজব ছড়ায় যে আমরা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, পিটার হাস সেখানে ছিলেন না। পরে জানা যায় তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।”
হাসনাত দাবি করেন, “এই গুজব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, “আগেও আমি কক্সবাজার ঘুরতে গেছি, কখনো কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। তাই এবারও সফরকে সাংগঠনিক নিয়ম ভঙ্গ বলা যায় না।”
শোকজ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় শোকজটি বাস্তবসম্মত নয়। সফর ছিল স্বচ্ছ, দলের নীতিমালাবিরোধী নয় এবং একান্ত ব্যক্তিগত। তবুও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি জবাব দিচ্ছি—এই অসভ্য জগতে সভ্যতার নিদর্শনস্বরূপ।”
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















