৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবদুল করিমের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী: ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল বাতিঘরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / ৭৪
আবদুল করিমের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী: ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল বাতিঘরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

মিশকাত সিদ্দিকী,জনসংযোগ 

বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার অগ্রপথিক, বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবদুল করিম-এর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ইতিহাস অনুরাগী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য দিনটি এক গভীর শ্রদ্ধা ও প্রেরণার উপলক্ষ। তাঁর জ্ঞান, নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব আজও দেশের উচ্চশিক্ষা ও ইতিহাস গবেষণায় অমলিন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিরাজমান।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাঃ ড. আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১ জুন ১৯২৮ সালে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাপাছড়ি গ্রামে। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ।

১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম আইআই কলেজ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ২য় স্থান লাভ করেন।১৯৪৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে আই.এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ৮ম স্থান অর্জন করেন।এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৪৯ সালে বি.এ এবং ১৯৫০ সালে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. করিমের শিক্ষাজীবনের গণ্ডি শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না।১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।পরে, ১৯৬২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয়বার পিএইচডি অর্জন করেন, যা তাঁর গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নিদর্শন।

পেশাগত জীবন ও গবেষণাঃ ড. করিম ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।১৯৬২ সালে তিনি ‘রীডার’ পদে উন্নীত হন।১৯৬৬ সালে নব প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন ইতিহাস বিভাগের রীডার হিসেবে।১৯৬৯ সালে অধ্যাপক হন এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

তাঁর গবেষণা মূলতঃ

মুসলিম শাসনকাল,মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস, এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী বিকাশ নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।

তাঁর লেখা বই ও গবেষণাপত্রসমূহ আজও ইতিহাসবিদদের জন্য মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।

প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নেতৃত্বঃ শুধু গবেষণা ও শিক্ষাদানই নয়, তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন সমান দক্ষ ও সৎ:১৯৫২–১৯৫৭: সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, সহকারী হাউস টিউটর,১৯৫৭–১৯৬০: হাউস টিউটর,১৯৬৬–১৯৭০: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল, প্রভোস্ট,১৯৭০–১৯৭৫: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন,১৯৭৫–১৯৮১: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

ড. আবদুল করিম শুধু একজন শিক্ষক নন তিনি ছিলেন, ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল দিগন্ত, একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও নিরলস সাধনা নতুন প্রজন্মকে শেকড়-সন্ধানী ও গবেষণামুখী করে তুলতে আজও অনুপ্রাণিত করে।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

আবদুল করিমের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী: ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল বাতিঘরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

সময়: ০১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
আবদুল করিমের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী: ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল বাতিঘরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি  মিশকাত সিদ্দিকী,জনসংযোগ  বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার অগ্রপথিক, বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবদুল করিম-এর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ইতিহাস অনুরাগী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য দিনটি এক গভীর শ্রদ্ধা ও প্রেরণার উপলক্ষ। তাঁর জ্ঞান, নিষ্ঠা ও নেতৃত্ব আজও দেশের উচ্চশিক্ষা ও ইতিহাস গবেষণায় অমলিন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিরাজমান। প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাঃ ড. আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১ জুন ১৯২৮ সালে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাপাছড়ি গ্রামে। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ। ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম আইআই কলেজ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ২য় স্থান লাভ করেন।১৯৪৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে আই.এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ৮ম স্থান অর্জন করেন।এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৪৯ সালে বি.এ এবং ১৯৫০ সালে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. করিমের শিক্ষাজীবনের গণ্ডি শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না।১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।পরে, ১৯৬২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয়বার পিএইচডি অর্জন করেন, যা তাঁর গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নিদর্শন। পেশাগত জীবন ও গবেষণাঃ ড. করিম ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।১৯৬২ সালে তিনি ‘রীডার’ পদে উন্নীত হন।১৯৬৬ সালে নব প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন ইতিহাস বিভাগের রীডার হিসেবে।১৯৬৯ সালে অধ্যাপক হন এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। তাঁর গবেষণা মূলতঃ মুসলিম শাসনকাল,মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস, এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী বিকাশ নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। তাঁর লেখা বই ও গবেষণাপত্রসমূহ আজও ইতিহাসবিদদের জন্য মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত। প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নেতৃত্বঃ শুধু গবেষণা ও শিক্ষাদানই নয়, তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলেন সমান দক্ষ ও সৎ:১৯৫২–১৯৫৭: সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, সহকারী হাউস টিউটর,১৯৫৭–১৯৬০: হাউস টিউটর,১৯৬৬–১৯৭০: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল, প্রভোস্ট,১৯৭০–১৯৭৫: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন,১৯৭৫–১৯৮১: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ড. আবদুল করিম শুধু একজন শিক্ষক নন তিনি ছিলেন, ইতিহাসচর্চার এক উজ্জ্বল দিগন্ত, একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও নিরলস সাধনা নতুন প্রজন্মকে শেকড়-সন্ধানী ও গবেষণামুখী করে তুলতে আজও অনুপ্রাণিত করে।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.