তফসিল ঘোষণার পরই প্রতিমন্ত্রীর নৌকার পোস্টারে সয়লাব
- সময়: ০৬:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩
- / ৫৭

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে বুধবার (১৫ নভেম্বর)। কোনো দলই এখনো নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেনি। ফলে প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী মো.জাকির হোসেনের নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টাররে সয়লাভ করা হয়েছে তার নির্বাচনী এলাকায়।
শহরের মোড়ে মোড়ে,গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় সাটানো হয়েছে পোস্টার। এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে কৌতূহল। অন্যদিকে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন,এটি দল ও মানুষকে বিব্রত করা। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) কুড়িগ্রামের চিলমারী,রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন এলাকা,স্থাপনায় প্রতিমন্ত্রীর এসব পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। পোস্টার দেখলে মনে হয় দু-এক দিন পরেই ভোট। তবে অন্য কোনো প্রার্থীর এমন পোস্টার না থাকায় মনে হবে একক প্রার্থীর ভোট। মোট কথা প্রার্থীদের প্রচারণা পোস্টারের মতোই এ পোস্টার সাঁটানোর ফলে মানুষের কৌতূহল কমছে না। যদিও সামনে মনোনয়নের বিষয়টি রয়েই গেছে।
এসব পোস্টার দেখে স্থানীয়রা বলছেন,তাহলে কি প্রতিমন্ত্রী মনোনয়ন পেয়ে গেছেন? বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য। জেলার চিলমারী,রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-৪ সংসদীয় এলাকা। প্রতিমন্ত্রী রৌমারী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও। এ আসনে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও অন্তত ১৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী,রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমন্ত্রী নাম ও ছবিসহ রঙিন পোস্টার লাগানো হয়েছে। এসব পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে। কিছু পোস্টারে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছবিও দেখা গেছে। রঙিন এসব পোস্টারে বলা হয়েছে,অনেক অর্জন আমাদের, বাকি আরও অনেক কাজ। ব্রহ্মপুত্র সেতু ও রেললাইনের জন্য মো.জাকির হোসেন (এমপি)-কে নৌকায় ভোট দিন।
কিছু পোস্টারে প্রচারে-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সর্বস্তরের উন্নয়ন প্রত্যাশী জনগণ লেখা থাকলেও আরেক ধরনের পোস্টারে প্রচারকারীর নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন বলেন,আমরা যারা দল করি এবং মনোনয়ন প্রত্যাশা করি তারা মনোনয়ন পাওয়ার আগে নৌকায় ভোট চাই। কিন্তু নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই প্রার্থী হিসেবে নিজের নামে দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়া দলকে ও ভোটারদের বিব্রত করার শামিল। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়ে তিনি দলীয় সভানেত্রীর অনুমোদনের আগেই কীভাবে এমন পোস্টারিং করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাছাড়া এটা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।’
একই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রহিমুজ্জামান সুমন বলেন,দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগেই এভাবে নিজের নামে দলীয় প্রতীক দিয়ে ভোট চাওয়া নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দলীয় সভানেত্রী এখনো কাউকেই মনোনয়ন দেননি। তার আগেই নিজেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচার করা সভানেত্রীকে অবমাননার শামিল।
একই মন্তব্য করেন ওই আসনে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর আলম। তবে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এসব পোস্টার তার পক্ষ থেকে সাঁটানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এভাবে পোস্টারিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন,কেউ এ রকম করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো.জিলহাজ উদ্দিন বলেন,নতুন করে পোস্টারিং করার সুযোগ নেই। আগে যারা পোস্টারিং বা প্রচারণা চালিয়েছে সামনের সপ্তাহের মধ্যে সব সরিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে,আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আগামী ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর দলীয় মনোনয়ন আবেদনপত্র সংগ্রহ করবেন এবং জমা প্রদান করবেন। তারপর হয়তো দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















