পলাশবাড়ী ড্রিমল্যান্ড পার্ক গাইবান্ধা
- সময়: ০৭:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
- / ১৪৫
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: portrait;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 44;
পলাশবাড়ী ড্রিমল্যান্ড পার্ক: এক বিকেলে বিস্ময়ের রাজ্যে
গাইবান্ধার সবুজ শ্যামলিমার বুক চিরে চলে গেছে দীর্ঘ পথ। সেই পথের ধারে পলাশবাড়ীর হরিণমারী গ্রামে অবস্থিত এক মায়াবী জগৎ—ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক। তপ্ত দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল নামে, তখন সূর্যের সোনালী আলো গাছের পাতায় লুকোচুরি খেলে। ঠিক এমনই এক বিকেলে স্কুলফেরত আরওয়াহ তার বাবা মার সাথে এসে হাজির হলো এই স্বপ্নরাজ্যে।
গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই তাদের চোখ ছানাবড়া! সারি সারি ফুলের গাছের ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, আর একটু দূরেই বিজ্ঞানের জাদুকর আইনস্টাইন। আরওয়াহর বাবা তাদের চেনাতে লাগলেন—”ওই দেখো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জন্যই আজ আমরা স্বাধীন দেশে নিশ্বাস নিতে পারি।”
তারা হাঁটতে হাঁটতে এক বিশাল পুকুরের সামনে এসে দাঁড়াল। শান্ত জলের বুকে গাছের ছায়া, শান বাঁধানো ঘাটে বসে কয়েকজন দর্শনার্থী অলস বিকেল কাটাচ্ছে। পুকুরপাড় ধরে এগোতেই তারা যেন ঢুকে পড়ল এক জীবন্ত ইতিহাসের বইয়ের পাতায়। পলাশীর যুদ্ধের ময়দানের এক প্রতিকৃতি তাদের নিয়ে গেল সেই অধ্যায়ে। আরওয়াহ অবাক হয়ে দেখছিল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ভাস্কর্য, তার চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল বেদনা ও দৃঢ়তার ছাপ।
পার্কের অন্য প্রান্তে শিশুদের জন্য ছিল এক রঙিন দুনিয়া। জিরাফ, হাতি আর হরিণের ভাস্কর্যগুলোর ওপর চড়ে শিশুরা আনন্দে মেতেছিল। আরওয়াহ সেই আনন্দে যোগ দিল। খেলতে খেলতে তারা আবিষ্কার করল বাংলাদেশের এক বিশাল মানচিত্র। প্রতিটি বিভাগ আর জেলার ওপর হাত বুলিয়ে তারা যেন পুরো দেশটাকেই ছুঁয়ে দেখল।
বিকেল শেষে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে, মা বললেন, “চলো, এবার ফেরা যাক।” ফেরার পথে আরওয়াহর মনে হাজারো প্রশ্ন। তারা আজ শুধু বেড়ায়নি, এক বিকেলে যেন ঘুরে এসেছে ইতিহাস আর বিজ্ঞানের বিশাল জগৎ থেকে। ড্রিমল্যান্ডের প্রতিটি ভাস্কর্য, প্রতিটি গাছ যেন তাদের নতুন কিছু শিখিয়েছে। এই পার্ক শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি যেন এক স্বপ্ন আর জ্ঞানের পাঠশালা। গাড়িতে বসেও সে ভাবতে লাগল, আবার কবে আসা হবে এই বিস্ময়ের রাজ্যে!
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


















