৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, কলেজ ছাত্রের স্বপ্ন শেষ

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১১২
পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, কলেজ ছাত্রের স্বপ্ন শেষ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে পাহাড়গাঁও গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় একলাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দূবৃর্ত্তরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের পাহাড়গাঁও গ্রামে ফিশারিজ প্রকল্পে এলাকায় এঘটনা ঘটে।

আজ বুধবার সকাল ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়গাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মৎস্যচাষী তরুন উদ্দোক্তা কলেজ ছাএ সেতাবুর রহমান ১ বছর আগে পাশে ৩৩ শতক জমিতে একটি পুকুর লিজ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই পুকুরে মাছচাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে কে বা কাহারা লোকজন আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায়। সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারলে গেল রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন তারা। এতে পুকুরে থাকা ১২-১৩ মণ মাছ মারা গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাএ সেতাবুর রহমান বলেন, বর্তমানে চাকুরীর বাজার বেশ কঠিন অনেক কষ্ট করে এই পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম আজ আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমার মত তরুণ প্রজন্মের উদ্দোক্তা যদি এভাবে শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হয় তাহলে উদ্দোক্তা কিভাবে তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, একটি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করে সংসারটা চালাচ্ছি। কে বা কাহারা গেল রাতে তারা আমার পুকুরে বিষ দিয়েছে। এতে আমার পুকুরে থাকা ১২-১৩ মণ মাছ মারা গেছে। ঋণের টাকা নিয়ে মাছ চাষ করেছি। এখন আমার কি হবে। তারা আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিল আমার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ নাই। যারা এ কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাহাড়গাঁও গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আমি সকালে পুকুরে দেখি মাছ ভেসে উঠছে। তারপর আমি ওনাকে জানাই।

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা মারুফ বলেন,সেতাবুর অনেক করে মাছ চাষ করেছে।কিন্তু আজ যারা তার ক্ষতি করে তার স্বপ্নটা নি:শেষ করল তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি সেই সাথে তরুণ উদ্দোক্তা সেতাবুরকে যেন উপযুক্ত ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পুকুরের পানি পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনার রহস্য।

হরিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ওই মৎস্যচাষী থানায় অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া নেব।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, কলেজ ছাত্রের স্বপ্ন শেষ

সময়: ০২:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, কলেজ ছাত্রের স্বপ্ন শেষঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে পাহাড়গাঁও গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় একলাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দূবৃর্ত্তরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের পাহাড়গাঁও গ্রামে ফিশারিজ প্রকল্পে এলাকায় এঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকাল ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়গাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মৎস্যচাষী তরুন উদ্দোক্তা কলেজ ছাএ সেতাবুর রহমান ১ বছর আগে পাশে ৩৩ শতক জমিতে একটি পুকুর লিজ নেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই পুকুরে মাছচাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে কে বা কাহারা লোকজন আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায়। সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি করতে না পারলে গেল রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন তারা। এতে পুকুরে থাকা ১২-১৩ মণ মাছ মারা গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। দিনাজপুর সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাএ সেতাবুর রহমান বলেন, বর্তমানে চাকুরীর বাজার বেশ কঠিন অনেক কষ্ট করে এই পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম আজ আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমার মত তরুণ প্রজন্মের উদ্দোক্তা যদি এভাবে শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হয় তাহলে উদ্দোক্তা কিভাবে তৈরি হবে। তিনি আরও জানান, একটি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করে সংসারটা চালাচ্ছি। কে বা কাহারা গেল রাতে তারা আমার পুকুরে বিষ দিয়েছে। এতে আমার পুকুরে থাকা ১২-১৩ মণ মাছ মারা গেছে। ঋণের টাকা নিয়ে মাছ চাষ করেছি। এখন আমার কি হবে। তারা আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিল আমার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ নাই। যারা এ কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাহাড়গাঁও গ্রামের আরেক বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আমি সকালে পুকুরে দেখি মাছ ভেসে উঠছে। তারপর আমি ওনাকে জানাই। ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা মারুফ বলেন,সেতাবুর অনেক করে মাছ চাষ করেছে।কিন্তু আজ যারা তার ক্ষতি করে তার স্বপ্নটা নি:শেষ করল তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি সেই সাথে তরুণ উদ্দোক্তা সেতাবুরকে যেন উপযুক্ত ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পুকুরের পানি পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনার রহস্য। হরিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ওই মৎস্যচাষী থানায় অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া নেব।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.