৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মনোনয়ন না চেয়েও’ জাকের পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেলেন মাছ বিক্রেতা

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১০:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১৪১
‘মনোনয়ন না চেয়েও’ জাকের পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেলেন মাছ বিক্রেতা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে দলের কাছে মনোনয়ন না চেয়েও জাকের পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সখীপুর উপজেলা জাকের পার্টির মৎস্যজীবী ফ্রন্টের সভাপতি আব্দুল জলিল। তিনি পেশায় একজন মাছ বিক্রেতা।

 

আব্দুল জলিল জেলার সখীপুর উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে। তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাননি। এর পরও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

তিনি জানান, দুই উপজেলায় প্রচার চালাতে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। এই মুহূর্তে তার হাতে নগদ কোনো টাকা নেই। ব্যাংকে আছে মাত্র দুই হাজার টাকা। তাই তিনি নির্বাচনের ন্যূনতম খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিধি মোতাবেক একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আব্দুল জলিল নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ২ লাখ ৪০ হাজার। অনুরূপ টাকা ব্যয়ের খাতেও উল্লেখ করেছেন। ফলে তার হাতে কোনো নগদ টাকা নেই। তিনি পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাছের ব্যবসা।

 

কীভাবে নির্বাচনের খরচ চালাবেন জানতে চাইলে আব্দুল জলিল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার করব। আমার একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের মাছ বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই আড়াই লাখ টাকা দিয়েই নির্বাচন চালাতে হবে।’

 

এই অল্প টাকায় নির্বাচন শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি দল থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও জানান।

 

আব্দুল জলিল আরও বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করিনি। শুধু নাম দস্তখত করতে পারি। আমি লোকমুখে শুনেছি অনেক অশিক্ষিত লোকও জনগণের ভোটে এমপি হয়েছেন। জনগণ ভোট দিলে এমপি হওয়া অসম্ভব কিছু না। সব আল্লাহর ইচ্ছা। আমি এমপি নির্বাচিত হলে কোনো টাকা-পয়সা খাব না। শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করব।’

 

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অনেকে ৫০ বছর রাজনীতি করেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। আর আমি চাওয়ার আগেই পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।’

 

সখীপুর উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের বিএনপির সাবেক নেতা শরিফ পাপ্পু বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করছি, এমপি তো দূরের কথা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সাহস পাই না। জলিলের বাবা একজন শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন। তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন সারা জীবন। আব্দুল জলিল মাছ বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি আমাদের গ্রামের জন্য গৌরব।’

 

সখীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাতটি রাজনৈতিক দলের সাত জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছেন। প্রার্থীরা হচ্ছেন- বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), অনুপম শাজাহান জয় (আওয়ামী লীগ), রেজাউল করিম (জাতীয় পার্টি), পারুল আক্তার (তৃণমূল-বিএনপি), আবুল হাশেম (বিকল্পধারা বাংলাদেশ), আব্দুল জলিল (জাকের পার্টি) ও মোস্তফা কামাল (বাংলাদেশ কংগ্রেস)।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

‘মনোনয়ন না চেয়েও’ জাকের পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেলেন মাছ বিক্রেতা

সময়: ১০:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
‘মনোনয়ন না চেয়েও’ জাকের পার্টির দলীয় মনোনয়ন পেলেন মাছ বিক্রেতাটাঙ্গাইল প্রতিনিধি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে দলের কাছে মনোনয়ন না চেয়েও জাকের পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সখীপুর উপজেলা জাকের পার্টির মৎস্যজীবী ফ্রন্টের সভাপতি আব্দুল জলিল। তিনি পেশায় একজন মাছ বিক্রেতা।   আব্দুল জলিল জেলার সখীপুর উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে। তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাননি। এর পরও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   তিনি জানান, দুই উপজেলায় প্রচার চালাতে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। এই মুহূর্তে তার হাতে নগদ কোনো টাকা নেই। ব্যাংকে আছে মাত্র দুই হাজার টাকা। তাই তিনি নির্বাচনের ন্যূনতম খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিধি মোতাবেক একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আব্দুল জলিল নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ২ লাখ ৪০ হাজার। অনুরূপ টাকা ব্যয়ের খাতেও উল্লেখ করেছেন। ফলে তার হাতে কোনো নগদ টাকা নেই। তিনি পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাছের ব্যবসা।   কীভাবে নির্বাচনের খরচ চালাবেন জানতে চাইলে আব্দুল জলিল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার করব। আমার একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের মাছ বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই আড়াই লাখ টাকা দিয়েই নির্বাচন চালাতে হবে।’   এই অল্প টাকায় নির্বাচন শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি দল থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও জানান।   আব্দুল জলিল আরও বলেন, ‘আমি পড়াশোনা করিনি। শুধু নাম দস্তখত করতে পারি। আমি লোকমুখে শুনেছি অনেক অশিক্ষিত লোকও জনগণের ভোটে এমপি হয়েছেন। জনগণ ভোট দিলে এমপি হওয়া অসম্ভব কিছু না। সব আল্লাহর ইচ্ছা। আমি এমপি নির্বাচিত হলে কোনো টাকা-পয়সা খাব না। শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করব।’   নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অনেকে ৫০ বছর রাজনীতি করেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। আর আমি চাওয়ার আগেই পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব।’   সখীপুর উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের বিএনপির সাবেক নেতা শরিফ পাপ্পু বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করছি, এমপি তো দূরের কথা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সাহস পাই না। জলিলের বাবা একজন শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন। তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন সারা জীবন। আব্দুল জলিল মাছ বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি আমাদের গ্রামের জন্য গৌরব।’   সখীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাতটি রাজনৈতিক দলের সাত জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছেন। প্রার্থীরা হচ্ছেন- বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), অনুপম শাজাহান জয় (আওয়ামী লীগ), রেজাউল করিম (জাতীয় পার্টি), পারুল আক্তার (তৃণমূল-বিএনপি), আবুল হাশেম (বিকল্পধারা বাংলাদেশ), আব্দুল জলিল (জাকের পার্টি) ও মোস্তফা কামাল (বাংলাদেশ কংগ্রেস)।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.