মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুশ্চিন্তায় লালমনিরহাটের মিম
- সময়: ১২:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ৫০

মোঃ রয়িসুল সরকার রোমন, স্টাফ রিপোর্টার:
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মাকসুদা আল বারী মিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে অর্থাভাবে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা পড়েছেন তিনি।
মিমের বাবা রাজমিস্ত্রি, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। অভাবের সংসারে পড়াশোনাকে বিলাসিতা মনে করেও থেমে থাকেননি মিম। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর বুঝতে পারেন, নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হবে। দিনে স্কুল, সন্ধ্যায় টিউশনি, আর রাতে পড়াশোনা- এই ছিল মিমের নিত্য দিনের রুটিন।
উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের মিজানুর রহমান ও আরিফা আক্তার দম্পতির মেয়ে মিমি। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় মিম। তিনি ২০২২ সালে ফুলগাছ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে দুরাকুটি কামরুন্নাহার ডিগ্রী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এবার মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩ হাজার ৩১১তম স্থান অর্জন করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মিম।
ছোটবেলা থেকে মিমের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। গ্রামের মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পেত, তখন তার মনে হত, যদি একদিন ডাক্তার হতে পারি, তাহলে এই কষ্ট লাঘব করতে পারব। কিন্তু স্বপ্ন দেখা আর সেটি বাস্তবায়ন করার মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা বারবার অনুভব করেছেন মিম।
মিম বলেন, “ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। অনেক বাধা পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, আর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
“ছোট বোন মারিয়াতুন আল বারী মেঘনা শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। দুই বোন মিলে প্রাইভেট পড়িয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাই।”
মিমের প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ বলেন, “মিম আমাদের গর্ব। কিন্তু শুধুমাত্র টাকার অভাবে তার স্বপ্ন থেমে যাবে, তা হতে পরে না।”
বাবা মিজানুর রহমান বলেন, তিনি মেয়েদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারেন না। তিন বোনের মধ্যে মিম ও আরেক মেয়ে টিউশনি করে সবার পড়ার খরচ জোগাড় করেন। এখন মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে মিম। মেয়েকে কীভাবে ভর্তি করাবেন সেই চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না তিনি।
ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, “মিম খুব মেধাবী। যদি সমাজের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়ায়, তাহলে একদিন এই মেয়ে ডাক্তার হয়ে আমাদের সেবা দেবে।”
মিমের চোখে এখনো স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে। তবে সেই স্বপ্নের পথে বাধা বড় কঠিন। কেউ কি তার পাশে দাঁড়াবে?
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















