৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মাথায় হাত 

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৪:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৫০
লালমনিরহাটে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মাথায় হাত 

আবির হোসেন সজল, লালমনিরহাট

 

উত্তরের সীমান্তবর্তী একমাত্র কৃষি নির্ভর জেলা লালমনিরহাট। চলতি মৌসুমে ফুলকপি নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩/৪ টাকা।

 

মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি ফুলকপি ৫০/৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩-৪ টাকায়। চাষিদের দাবি, তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সবজী চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এ অঞ্চলের চাষিরা।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মৌসুমির শুরুতে দাম ভালো থাকায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে ফুলকপিসহ নানা জাতের সবজী সরবরাহ বেড়ে গেছে। এতে করে চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। অনেক চাষি বাধ্য হয়ে লোকসানের মধ্যেই ফুলকপি বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই থেকে ফুলকপি না তুলেই নষ্ট করে দিচ্ছেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ১১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। এই জমি থেকে প্রায় ১২ হাজার ২০০ টন ফুলকপি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। রোগবালাই কম আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে।এদিকে কোন চাহিদা নাথাকায় কমেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সরবরাহ।

 

লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বসে স্থানীয়, অস্থায়ী পাইকারি সবজির বাজার। এই বাজারে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ফুলকপি কেনাবেচা হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর ও আদিতমারী সবচেয়ে বেশি ফুলকপি চাষ হয়। এসব এলাকয় থেকে বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপি সরবরাহ হয় । বাজারে সাদা টাটকা ফুলকপির স্তূপ জমেলেও নেই ক্রতা। চাষিরা পাইকারি আরত গুলোতে ক্রেতাদের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন। কিন্তু দাম নিয়ে তাদের মুখে হতাশা ছাপ।

 

এ অঞ্চলের চাষিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চড়া দামে সার, কীটনাশক,সেচ,শ্রমীক দিয়ে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফুলকপি বিক্রি করছেন। অনেক চাষিরা ফুলকপি জমি থেকে নাতুলেই ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে নষ্ট করে দিচ্ছে ফুলকপি।

 

জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুলকপি সহ নানা ধরনের সবজি সরবরাহ করি। এবছর জেলায় ফুলকপি সরবরাহ এত বেশি যে, তাঁরা সব কপি কিনতে পারছেন না।

 

লালমনিরহাট সদরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার, গোসালা বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের পাইকারি সবজির আড়ৎগুলোত থেকে জেলার খুচরা ব্যবসয়ীদের কাছে কপি সরবরাহ করি। তবে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় দাম কম। চাষিদের জন্য বিষয়টি বড় লোকসানের।

 

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শায়খুল আরেফিন বলেন, ‘শুরুতে ভালো দামে ফুলকপি বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হয়েছিলেন। তবে একসঙ্গে বেশি ফুলকপিসহ বিভিন্ন সজজি আবাদ করায় সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং দাম কমেছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন বিভিন্ন ধরনের ফসল একসাথে চাষ নাকরে আগে পিছে করে চাষ করেন । এতে বাজারে ভারসাম্য আসবে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

লালমনিরহাটে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মাথায় হাত 

সময়: ০৪:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
লালমনিরহাটে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মাথায় হাত আবির হোসেন সজল, লালমনিরহাট   উত্তরের সীমান্তবর্তী একমাত্র কৃষি নির্ভর জেলা লালমনিরহাট। চলতি মৌসুমে ফুলকপি নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩/৪ টাকা।   মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি ফুলকপি ৫০/৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩-৪ টাকায়। চাষিদের দাবি, তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সবজী চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এ অঞ্চলের চাষিরা।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মৌসুমির শুরুতে দাম ভালো থাকায় অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে বাজারে ফুলকপিসহ নানা জাতের সবজী সরবরাহ বেড়ে গেছে। এতে করে চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। অনেক চাষি বাধ্য হয়ে লোকসানের মধ্যেই ফুলকপি বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই থেকে ফুলকপি না তুলেই নষ্ট করে দিচ্ছেন।   জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ১১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। এই জমি থেকে প্রায় ১২ হাজার ২০০ টন ফুলকপি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। রোগবালাই কম আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে।এদিকে কোন চাহিদা নাথাকায় কমেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সরবরাহ।   লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত বসে স্থানীয়, অস্থায়ী পাইকারি সবজির বাজার। এই বাজারে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ফুলকপি কেনাবেচা হয়।   সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর ও আদিতমারী সবচেয়ে বেশি ফুলকপি চাষ হয়। এসব এলাকয় থেকে বিভিন্ন এলাকায় ফুলকপি সরবরাহ হয় । বাজারে সাদা টাটকা ফুলকপির স্তূপ জমেলেও নেই ক্রতা। চাষিরা পাইকারি আরত গুলোতে ক্রেতাদের সামনে সাজিয়ে রেখেছেন। কিন্তু দাম নিয়ে তাদের মুখে হতাশা ছাপ।   এ অঞ্চলের চাষিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চড়া দামে সার, কীটনাশক,সেচ,শ্রমীক দিয়ে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফুলকপি বিক্রি করছেন। অনেক চাষিরা ফুলকপি জমি থেকে নাতুলেই ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে নষ্ট করে দিচ্ছে ফুলকপি।   জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুলকপি সহ নানা ধরনের সবজি সরবরাহ করি। এবছর জেলায় ফুলকপি সরবরাহ এত বেশি যে, তাঁরা সব কপি কিনতে পারছেন না।   লালমনিরহাট সদরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার, গোসালা বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের পাইকারি সবজির আড়ৎগুলোত থেকে জেলার খুচরা ব্যবসয়ীদের কাছে কপি সরবরাহ করি। তবে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় দাম কম। চাষিদের জন্য বিষয়টি বড় লোকসানের।   এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শায়খুল আরেফিন বলেন, ‘শুরুতে ভালো দামে ফুলকপি বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হয়েছিলেন। তবে একসঙ্গে বেশি ফুলকপিসহ বিভিন্ন সজজি আবাদ করায় সরবরাহ বেড়ে গেছে এবং দাম কমেছে।   তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন বিভিন্ন ধরনের ফসল একসাথে চাষ নাকরে আগে পিছে করে চাষ করেন । এতে বাজারে ভারসাম্য আসবে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাবেন।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.