৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উলিপুর হাসপাতালে যন্ত্রপাতি অকেজো, জনবল সংকটে চিকিৎসাহীনতায় ভূগছে মানুষজন

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৫:০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮১
উলিপুর হাসপাতালে যন্ত্রপাতি অকেজো, জনবল সংকটে চিকিৎসাহীনতায় ভূগছে মানুষজন

মোঃ শাহাজাহান খন্দকার, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩৯৫২০৭ জনের অধি মানুষজনের বসবাস। মঙ্গাকবলিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত উলিপুর। বরাদ্দ থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও অনুমোদনে বরাবরই উলিপুরের নাম থাকে পিছিয়ে। প্রান্তিক উপজেলা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবায় নানা সংকট বিরাজমান। উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে আছে। নেই প্রয়োজনীয় জনবল। ১৩ ইউনিয়ন এক পৌর বাসিন্দার জন্য মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটির এ করুণ অবস্থা হলে কীভাবে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে?

উপজেলার সব মানুষের ভরসার স্থান ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু হাসপাতালটির পাঁচটি ইসিজি যন্ত্রের চারটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। একমাত্র সচল পুরোনো ইসিজি যন্ত্রটি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটির প্রিন্টার নষ্ট। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট কম্পিউটারে দেখে রোগনির্ণয় করছেন। প্রিন্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে রোগীদের প্রশ্ন রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রমও বন্ধ।

সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ১৬ জন; কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন। ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে আছেন একজন। গাইনি, শিশু ও মেডিসিন, নাক, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি, অফিস সহায়কের পাঁচটি পদ ফাঁকা। তিনজন ওয়ার্ড বয়ের বিপরীতে আছেন একজন। হাসপাতালে দুজন আয়া থাকার কথা থাকলেও এ পদটিও শূন্য।

এত সমস্যা ও সংকট নিয়ে হাসপাতালটি কীভাবে রোগীর চিকিৎসাসেবা দেবে? ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই পরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। চিকিৎসক না থাকায় ধরনা দিচ্ছেন বাইরের প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে। ফলে চিকিৎসার পেছনে বাড়তি খরচ পড়ছে রোগীদের। এতে ভোগান্তি বাড়ছে গরিব বা নিম্ন আয়ের মানুষের। সামর্থ্য না থাকায় অনেকে হাসপাতালেই পড়ে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য, দৈনিক বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এত সংকট নিয়ে বিপুল জনসংখ্যার সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ছয় মাস আগে ইসিজি যন্ত্র মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো খবর নেই।

আমরা আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তা পেলে হাসপাতালটির সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন হবে। যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক ছাড়া এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

উলিপুর হাসপাতালে যন্ত্রপাতি অকেজো, জনবল সংকটে চিকিৎসাহীনতায় ভূগছে মানুষজন

সময়: ০৫:০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
উলিপুর হাসপাতালে যন্ত্রপাতি অকেজো, জনবল সংকটে চিকিৎসাহীনতায় ভূগছে মানুষজনমোঃ শাহাজাহান খন্দকার, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩৯৫২০৭ জনের অধি মানুষজনের বসবাস। মঙ্গাকবলিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত উলিপুর। বরাদ্দ থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও অনুমোদনে বরাবরই উলিপুরের নাম থাকে পিছিয়ে। প্রান্তিক উপজেলা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবায় নানা সংকট বিরাজমান। উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে আছে। নেই প্রয়োজনীয় জনবল। ১৩ ইউনিয়ন এক পৌর বাসিন্দার জন্য মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটির এ করুণ অবস্থা হলে কীভাবে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে? উপজেলার সব মানুষের ভরসার স্থান ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু হাসপাতালটির পাঁচটি ইসিজি যন্ত্রের চারটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। একমাত্র সচল পুরোনো ইসিজি যন্ত্রটি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটির প্রিন্টার নষ্ট। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট কম্পিউটারে দেখে রোগনির্ণয় করছেন। প্রিন্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে রোগীদের প্রশ্ন রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রমও বন্ধ। সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ১৬ জন; কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন। ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে আছেন একজন। গাইনি, শিশু ও মেডিসিন, নাক, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি, অফিস সহায়কের পাঁচটি পদ ফাঁকা। তিনজন ওয়ার্ড বয়ের বিপরীতে আছেন একজন। হাসপাতালে দুজন আয়া থাকার কথা থাকলেও এ পদটিও শূন্য। এত সমস্যা ও সংকট নিয়ে হাসপাতালটি কীভাবে রোগীর চিকিৎসাসেবা দেবে? ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই পরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। চিকিৎসক না থাকায় ধরনা দিচ্ছেন বাইরের প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে। ফলে চিকিৎসার পেছনে বাড়তি খরচ পড়ছে রোগীদের। এতে ভোগান্তি বাড়ছে গরিব বা নিম্ন আয়ের মানুষের। সামর্থ্য না থাকায় অনেকে হাসপাতালেই পড়ে থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য, দৈনিক বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এত সংকট নিয়ে বিপুল জনসংখ্যার সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ছয় মাস আগে ইসিজি যন্ত্র মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো খবর নেই। আমরা আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তা পেলে হাসপাতালটির সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন হবে। যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক ছাড়া এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.