বৃহস্পতিবারের টুকরো সুখ
- সময়: ০৯:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
- / ৫৩
ছাত্রজীবন। বৃহস্পতিবার। মধুর সব-স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই দিনটির সাথে। দুপুরের পর থেকেই ভাঙা মনটা চাঙা হয়ে উঠত।অন্যদিনের চেয়ে একটু ভিন্নরকম।মনে অপূর্ব সুখ ছড়িয়ে পড়ত। শেষ ঘন্টার বেল শোনার জন্য মনটা খুশিতে খলবল করত।ক্ষণে ক্ষণে অভাবিত আনন্দ আমাদের প্রাণের দুয়ারে কড়া নেড়ে যেত। ঘড়ির কাটার দিকে বারবার দৃষ্টি ফেলে তাকানো। টিপ্পানি কেটে একে অপরের সাথে কথা বলা, আরো কত কী ঘটে যেত সে মুহূর্তে! আমাদের অতীতের গল্পগুলো সত্যিই প্রাণছোঁয়া ও ভালবাসাময় ছিল।
অবশেষে যখন শেষঘন্টা বেজে উঠত,হার না মানা মুজাহিদের মতো যুদ্ধে নেমে পড়ত সবাই।আইরন করা চকচকে পাঞ্জাবি, আর আতরের সুবাসে সুবাসিত হয়ে উঠত কামরাগুলো। তারপর আপন মনে যার যার গন্তব্যে রওনা হওয়া। মনে পড়ে;—বৃহস্পতিবার এলেই চলে যেতাম সাত মসজিদে মার্কেট, আল আযহার লাইব্রেরি, রাহমানিয়া লাইব্রেরিতে। টাউন হল কিংবা আল্লাহ করীম মসজিদের আশপাশে ব্যস্ত ছুটাছুটি ছিল পুরোনো অভ্যাস, প্রিয় আল আমিন রাহমানি কিংবা নাঈমুল ইসলাম এর হাত ধরে ছুটন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্যগুলো খুব মনে পড়ে।শেষবেলায় এসে প্রিয় আতীকুল্লাহ আশিক ভাইয়ের সাথে যে সখ্যতা গড়ে ওঠেছিল, সত্যিই ভুলবার মতো নয়।
আমরা দলবেঁধে কোনদিন চলে যেতাম বেঙ্গল বুক হাউসে,বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কিংবা কোন মাহফিল সেমিনারে। কোন বৃহস্পতিবার এমন হতো, মাদরাসা থেকে চব্বিশ ঘন্টার জামাতে গিয়েছি মুহাম্মদপুর মারকাজ মসজিদ, আল্লাহ করীম, বাইতুস সুজুদ কিংবা অন্যকোন মসজিদে, এদিকে মাগরিবের আযানে শহর মুখরিত হয়ে গেছে।আমাদের হাতের মুঠোয় মুড়ি চানাচুরের ঠোঙা। দু’পায়ে প্রচণ্ড শক্তি ব্যয় করে জামাত ধরার জন্য ছুটছি।ইতোমধ্যে জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা পেছনের কাতারে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছি। নামাজ শেষে আবার ছুটে চলেছি গন্তব্যে। এশার পর ব্যস্তনগরী যখন নীরব হয়ে আসতো তখন আমরা চুপিচুপি মুড়ির পলিথিন খুলতাম। কী সুখাদ্য! কী অমৃত স্বাদ! যেন এখনো ঠোঁটের পাতায় লেগে আছে। বৃহস্পতিবার রাতগুলো বড় স্মৃতিময় ও প্রীতময় হয়ে থাকবে আমার, আমাদের জীবনে।
সেইসব শুক্রবারের কথাও ভুলিনি। বাদ ফজর লম্বা ঘুমের সফর। জুমার নামাজ পড়ার জন্য দূরের মসজিদে ছুটে যাওয়া।ঘুরন্ত শহরের ঘুপচি গলি।অচেনা গলিতে বারবার যাওয়া আসা।এখানে ওখানে হেঁটে হেঁটে দেখা। বিকেলে সাহিত্যগুরু প্রিয় ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী সাহেব এর সান্নিধ্যে কাটানো।প্রাণখোলা আলাপ। স্বপ্নমাখা আলোচনা।একের পর এক চলতে থাকা। প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গ।মুগ্ধমনে শুনতে থাকতে থাকতাম এক পর্যায়ে যখন মাগরিবের আযান ভেসে আসত আলাপের জাল ছিঁড়ে যেত।ধীরে ধীরে মুগ্ধতার ঘোর ভাঙত।এভাবে শিক্ষাজীবনের রঙিন দিনগুলো কখন কেটে গেছে টের পাইনি। আজ যখন বৃহস্পতিবার এলো চোখের দিগন্তে খুলে যেতে লাগলো সোনালি স্মৃতির রঙিন পাঠশালা। গভীর রাতে নির্জনে বসে স্মৃতিজলে ভেসে ওঠেছে দুচোখ। কতো স্বপ্ন ছিল আমাদের চোখে।যে স্বপ্নগুলো তাড়িয়ে নিয়ে শহরের এ মাথা থেকে ও মাথায়। সময়ের সাথে দৃশ্যপট এতটা বদলে যাবে ভাবিনি। শহর থেকে চলে আসার সময় কেমন যেনো প্রিয় মানুষগুলোকে দাফন করে এসেছি। তবু ভালো থাকুক স্মৃতি জীবনের সকল প্রিয় ও প্রিয়জন।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















