৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার শাহীন আলমের জীবনযুদ্ধ: অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এক প্রতিভা

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৯:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৮৯

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

২০১৯ সালের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যে জয় ছিল এক নতুন সূর্যোদয়ের, সেই জয়ের সাক্ষী ছিলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সন্তান শাহীন আলম। একসময় বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার—সেই প্রতিভাবান পেসার আজ জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক নীরব যোদ্ধা।

শাহীন আলম বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। নেই একটি ভালো জোড়া বোলিং সু, নেই পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসার সুযোগ। এমনকি বিকেএসপিতে বকেয়া পড়ে আছে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক। আর ক্রিকেট থেকে যে সামান্য আয়ের আশা ছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের এই তরুণ ক্রিকেটারের বাবা দিনমজুর শাহাদত হোসেন এবং মা গৃহিণী সাতিনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট শাহীন ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে উঠেছেন। বাবার সঙ্গে কাজ করেছেন ইটভাটায়। তবে তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল ক্রিকেট। সেই স্বপ্নই একদিন তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্ব মঞ্চে।

২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেন শাহীন আলম। কিন্তু এরপরই ইনজুরির কবলে পড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যান মূলধারার ক্রিকেট থেকে। জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া তার সতীর্থরা আজ প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু শাহীন হারিয়েছেন নিজের জায়গাটুকুও।

শাহীন আক্ষেপ করে বলেন,
“আমার বন্ধু সাকিব (তানজিম), বড় ভাই শরীফুল—সবার সাথেই খেলেছি। এখন কেউ আর খোঁজ নেয় না। টেক্সট দিলেও রেসপন্স আসে না। আমি এমন অবস্থায় আছি, যেখানে পরিবার চালানোর দায়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়।”

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ তিনি মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন, তাও নামমাত্র পারিশ্রমিকে। বিকেএসপি থেকেও বর্তমানে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একসময় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক সাহায্যের হাত বাড়ালেও, যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা মুখ ফিরিয়ে আছেন।

ব্যথিত হৃদয়ে শাহীন প্রশ্ন রাখেন,
“আমি কি একটু সহায়তার দাবিদার নই? আমার বন্ধুদের ইনজুরিতে বিসিবি পাশে ছিল, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা কেন হয়নি?”

আজ শাহীন আলম চায়—একটু সহানুভূতি, একটু প্রশিক্ষণের সুযোগ, একটি চাকরি কিংবা নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা। যাতে করে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। তার প্রশ্ন,
“একজন যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের ন্যূনতম চাওয়া কি উপেক্ষিত হবে?”

ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শাহীনের আকুতি—তাকে যেন আরেকটু সুযোগ দেওয়া হয়। যেন অবহেলায় হারিয়ে না যান এমন একজন গর্বিত যোদ্ধা, যিনি দেশের ইতিহাস গড়ার অংশ ছিলেন।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার শাহীন আলমের জীবনযুদ্ধ: অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এক প্রতিভা

সময়: ০৯:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২০১৯ সালের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যে জয় ছিল এক নতুন সূর্যোদয়ের, সেই জয়ের সাক্ষী ছিলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সন্তান শাহীন আলম। একসময় বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার—সেই প্রতিভাবান পেসার আজ জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক নীরব যোদ্ধা। শাহীন আলম বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। নেই একটি ভালো জোড়া বোলিং সু, নেই পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসার সুযোগ। এমনকি বিকেএসপিতে বকেয়া পড়ে আছে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক। আর ক্রিকেট থেকে যে সামান্য আয়ের আশা ছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের এই তরুণ ক্রিকেটারের বাবা দিনমজুর শাহাদত হোসেন এবং মা গৃহিণী সাতিনা বেগম। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট শাহীন ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে উঠেছেন। বাবার সঙ্গে কাজ করেছেন ইটভাটায়। তবে তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল ক্রিকেট। সেই স্বপ্নই একদিন তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্ব মঞ্চে। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেন শাহীন আলম। কিন্তু এরপরই ইনজুরির কবলে পড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যান মূলধারার ক্রিকেট থেকে। জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া তার সতীর্থরা আজ প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু শাহীন হারিয়েছেন নিজের জায়গাটুকুও। শাহীন আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বন্ধু সাকিব (তানজিম), বড় ভাই শরীফুল—সবার সাথেই খেলেছি। এখন কেউ আর খোঁজ নেয় না। টেক্সট দিলেও রেসপন্স আসে না। আমি এমন অবস্থায় আছি, যেখানে পরিবার চালানোর দায়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়।” ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ তিনি মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন, তাও নামমাত্র পারিশ্রমিকে। বিকেএসপি থেকেও বর্তমানে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একসময় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক সাহায্যের হাত বাড়ালেও, যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা মুখ ফিরিয়ে আছেন। ব্যথিত হৃদয়ে শাহীন প্রশ্ন রাখেন, “আমি কি একটু সহায়তার দাবিদার নই? আমার বন্ধুদের ইনজুরিতে বিসিবি পাশে ছিল, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা কেন হয়নি?” আজ শাহীন আলম চায়—একটু সহানুভূতি, একটু প্রশিক্ষণের সুযোগ, একটি চাকরি কিংবা নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা। যাতে করে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। তার প্রশ্ন, “একজন যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের ন্যূনতম চাওয়া কি উপেক্ষিত হবে?” ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শাহীনের আকুতি—তাকে যেন আরেকটু সুযোগ দেওয়া হয়। যেন অবহেলায় হারিয়ে না যান এমন একজন গর্বিত যোদ্ধা, যিনি দেশের ইতিহাস গড়ার অংশ ছিলেন।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.