শশাঙ্কের ঝড় থামিয়ে আরসিবির শিরোপা জয়
- সময়: ১০:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
- / ৮৩
আকাশ দাশ সৈকত
শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে গেলেন, ব্যাটারদের ছন্দপতনের দিনেও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন শশাঙ্ক, তবে শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না, আরসিবি বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ৬ রানে হেরে আবারো আইপিএল শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ পাঞ্জাব কিংসের।
ফাইনাল। আইপিএলের চলতি আসরের ফাইনালে উঠা দুই দলের জন্যই বড্ড এক রোমাঞ্চের মঞ্চ , প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা উঁচিয়ে ধরে দেখতে পারবে নতুন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি, ১৮ বছরের আইপিএল ইতিহাসের অধরা শিরোপায় এইবার হাত ছুঁয়ে নিতে পারে পাঞ্জাব কিংবা ব্যাঙ্গালোর। তবে সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে অপেক্ষা করতে হলো শেষ বল পর্যন্ত
আজ প্রথম ইনিংসে ব্যাঙ্গালোর দেওয়া রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ সূচনা পায় পাঞ্জাব কিংস । তবে দলীয় ৪৩ রানের মাথায় প্রিয়াম আর্যকে ২৪ রানে ফিরিয়ে ব্যাঙ্গালোরকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অজি পেসার জশ হ্যাজলউড। সঙ্গীকে হারিয়ে ২৬ রান করে কুনাল পান্ডিয়ার শিকার হয়ে ফিরেন অন্য ওপেনার প্রভিসাম সিং। গত ম্যাচের জয়ের নায়ক ক্যাপ্টেন আইয়ার ব্যর্থ ফাইনালের মঞ্চে অনিয়মিত বোলার শেফার্ডকে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন জিতেশ শর্মাকে। দ্রত তিন উইকেট পড়া পঞ্জাব সমর্থকদের আক্ষেপটা আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা জশ ইংগলিশের উইকেট। কুণাল পান্ডিয়ার দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৪ ছক্কা আর ১ চারে ৩৯ রান।
হঠাৎ দলের এমন ব্যাটিং ছন্দপততে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শেষ ৫ ওভারে ৭১ রানের কঠিন সমীকারণের সামনে দায়িত্ব পড়ে নেহাল ওয়াদেরা আর শশাঙ্ক সিংয়ের হাতে। দুইজনে এগিয়ে গেছেন ও সেইদিকে তবে ম্যাচের ১৭ তম ওভারের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। ওয়াদেরাকে প্যাভিলিয়নে পাঠানোর ওভারেই মার্কাস স্টয়নিসকেও ফিরিয়ে ব্যাঙ্গালোর সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এই পেসার। এমন সময় ব্যাট হাতে ব্যর্থ আজমতউল্লাহ ওমরজাইও। ফলে যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষপর্যন্ত ৬ বলে ২৯ রানের সমীকারণ মিলাতে পারেনি শশাঙ্ক সিং। শেষে পর্যন্ত ৩০ বলে ৬ ছক্কা আর ৩ চারে ৬১ রানের ইনিংস খেললেও দলের হার এড়াতে পারেনি শশাঙ্ক । ৬ রানে জিতে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলা ব্যাঙ্গালোর হয়ে এইদিন দুইটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার এবং কুনাল পান্ডিয়া একটি করে উইকেট শিকার করেন দয়াল হ্যাজলউড এবং শেফার্ড।
এর আগে ভারতের বিখ্যাত নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৮ রানের মাথায় ওপেনার ফিল সল্টকে হারায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোর । সল্টের বিদায়ে তিনে ব্যাট করতে নামা মায়াঙ্ক আগারওয়ালের সাথে অন্য ওপেনার ভিরাট কোহলি শুরুর প্রতিরোধ গড়তে চাইলেও পাঞ্জাব লেগি যুবেন্দ্র চাহালের বলে আর্শদ্বীপকে ক্যাচ দিয়ে মায়াঙ্ক ফিরলে ভাঙে দুইজনের ৩৮ রানের জুটি। চারে নেমে উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেনি দলটির ক্যাপ্টেন রজত পাতিদর ফিরেন ১৬ বলে ২৬ রান করে। অনেক্ষণ উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা কোহলি এইদিন ব্যাট হাতে এগিয়েছেন মন্থর গতিতে । ৩৫ বলে ৪৩ রান করা কোহলিকে ফিরিয়ে ব্যাঙ্গালোরকে চাপে ফেলে দেন আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
কোহলির বিদায়ের চাপ সামলে উইকেটে দাঁড়িয়ে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ইংলিশ ব্যাটার লিভিংস্টন ফিরেন জিমিশনের শিকার হয়ে ১৫ বলে ২৫ রান করে। অন্যদিকে প্রথম কোয়ালিফাই ম্যাচ জয়ের নায়ক জিতেশ এইদিন ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেনি। ফিরেন ১০ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে। ঝড় তোলার আগেই শের্ফাডকে ফিরিয়ে দেন আর্শদ্বীপ। দলের এমন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানের ভালো সংগ্রহ পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোর । পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন আর্শদ্বীপ এবং জিমিশন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আরসিবি ১৯০/৯ (২০ ওভার)
ভিরাট ৪৩ (৩৫) পাতিদর ২৬ (১৬)
আর্শদ্বীপ ৩/৪০ জিমিশন ৩/৪৮
পাঞ্জাব কিংস ১৮৪/৭ (২০ ওভার)
শশাঙ্ক ৬১* (৩০) ইগলিশ ৩৯ (২৩)
কুনাল ১৭/২ ভুবনেশ্বর ২/৩৮
ফলাফল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালোর ৬ রানে জয়ী।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.



















